ঠাকুরগাঁও এর পীরগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান স্থবির হয়ে পড়েছে
ছবি- সকালের বার্তা
ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ সরকারি প্রাইমারী স্কুলে শিক্ষার মুখ থুবড়ে পড়েছে। গত ১০ বছরেও প্রাইমারী শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে, মান সম্মত শিক্ষা প্রদান করার ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা প্রশাসন সন্তোষজনক কোন ভূমিকা পালন করতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক সচেতন অভিভাবকরা প্রাইমারী স্কুলের পরিবর্তে এনজিও কর্তৃক পরিচালিত ব্র্যাক, ইকো পাঠশালা ও বে-সরকারি ভাবে গড়ে উঠা কিন্ডার গার্ডেন স্কুলে তাদের ছেলে-মেয়েকে ভর্তি করছে।
ফলে দিন দিন কিন্টার গার্ডেন স্কুল গুলোর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এ উপজেলায় ১৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। অধিকাংশ বিদ্যালয়ের রেজিষ্টার খাতায় ছাত্র-ছাত্রীদের নামের যে তালিকা রয়েছে বাস্তবে তার ৪ ভাগের ১ ভাগ শিক্ষার্থীও উপস্থিত নেই স্কুলে। বছরের পর বছর ধরে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বাড়েনি। এ উপজেলায় শতাধিক প্রাইমারী স্কুলের ছেলে মেয়েরা বাংলা ও ইংরেজী রিডিং পড়তে পারেনা। শিক্ষকদের পাঠদানে রয়েছে গাফলতি।
প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষকরাই সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত স্কুলে থেকে তারপর স্কুল থেকে চলে আসেন। অনেকেই করেন ব্যক্তিগত কাজ, কেউ বা কৃষি অথবা ব্যবসা বাণিজ্য দেখা শোনা করেন। অনেকেই আবার প্রাইভেট/কোচিং সেন্টার নিয়ে ব্যস্ততায় থাকেন।
উপজেলায় শিক্ষক, শিক্ষা অফিস ও শিক্ষক প্রশিক্ষনের পিছনে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও এর সন্তোষজনক সুফল মিলছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। সকাল ১০ টা থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রাইমারী স্কুলের অনেক প্রধান শিক্ষককে অফিসিয়াল কাজের অজুহাতে শিক্ষা অফিসের বারান্দায় ঘুর ঘুর করতে দেখা যায়। অথচ উপজেলা শিক্ষা প্রশাসন সবই জানেন।
কিন্তু গত ৫ বছরে কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেননি মর্মে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশাসনিক কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়ায় শিক্ষার গুনগত মানের উন্নতি হচ্ছে না বলে অভিভাবকরা ধারনা করছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার রাহিম উদ্দীন এ প্রতিনিধিকে জানান, ধীরে ধীরে সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। আমরা আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে জরুরী ভিত্তিতে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে সুশীল সমাজ মনে করেন।













