আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি: তথ্য অধিকার দরখাস্ত ছড়িয়ে অপপ্রচার
ছবি- সকালের বার্তা
তথ্য অধিকার আইনে করা একটি দরখাস্ত তৃতীয় পক্ষের কাছে সরবরাহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে নাচোলের এক সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোঃ আশরাফুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) বরাবর একজন সংবাদকর্মী তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী একটি লিখিত আবেদন করেন।
কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আবেদনটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি না করে বরং সেটি অন্য ব্যক্তির কাছে সরবরাহ করেন। পরবর্তীতে সেই আবেদনটি ফেসবুকে প্রকাশ করে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী কোনো আবেদনকারীর তথ্য বা আবেদনপত্র অনুমতি ছাড়া তৃতীয় পক্ষের কাছে প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
আইনের ধারা ৯ অনুযায়ী, তথ্য প্রদান প্রক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয় এবং আবেদনকারীর গোপনীয়তা রক্ষা করা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দায়িত্ব। এছাড়া ধারা ৭-এ কিছু ক্ষেত্রে তথ্য প্রদান থেকে বিরত থাকার বিধান থাকলেও, আবেদনপত্র ফাঁস করার কোনো সুযোগ আইনে নেই। আইনজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড তথ্য অধিকার আইনের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে এবং আবেদনকারীর নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতার ওপর হুমকি সৃষ্টি করে।
বিশেষ করে একজন সাংবাদিকের আবেদন এভাবে প্রকাশ করা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
তারা বলছেন, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা যদি নিজেই আইন লঙ্ঘন করেন, তাহলে সাধারণ মানুষের তথ্য পাওয়ার অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।এদিকে, বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। অন্যথায় তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়ন প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্ল্লিষ্টরা।













