বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

আশুলিয়ায় সাংবাদিক সিয়ামকে প্রাণনাশের হুমকি, নেপথ্যে থানার গেটের ‘দালাল চক্র’ ও মার্কেট সিন্ডিকেট!

মোস্তাবিন সিয়াম, বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
আশুলিয়ায় সাংবাদিক সিয়ামকে প্রাণনাশের হুমকি, নেপথ্যে থানার গেটের ‘দালাল চক্র’ ও মার্কেট সিন্ডিকেট!

সাভারের আশুলিয়ায় সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক সিয়ামকে হাত-পা ভেঙে দেওয়া ও প্রাণে মেরে ফেলার প্রকাশ্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাচ্চু মন্ডল নামের এক মার্কেট মালিকের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ঘটনা ধামাচাপা দিতে ‘নিউজ ডিলিট’ করার জন্য ২০ হাজার টাকা দাবির মনগড়া ও বানোয়াট গল্প সাজিয়ে উল্টো সাংবাদিককে ফাঁসানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি সুসংগঠিত থানা-কেন্দ্রিক দালাল চক্র।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আশুলিয়া থানার সামনেই গড়ে উঠেছে বাচ্চু মন্ডলের মালিকানাধীন মার্কেট। এই মার্কেটের বিভিন্ন দোকান ও রুম ভাড়া নিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন আইনজীবীরা তাদের ল-চেম্বার (আইনজীবী চেম্বার) পরিচালনা করছেন। বাচ্চু মন্ডল নিজে কোনো ল-চেম্বারের মালিক না হলেও, তার মার্কেটে থাকা এই ল-চেম্বারগুলোর আইনি পরিবেশ ও আইনজীবীদের নাম ভাঙিয়ে নেপথ্যে থেকে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে।
এই সিন্ডিকেটের প্রধান দুই খলিফা হলেন বাচ্চু মন্ডলের বোনজামাই সিদ্দিক এবং বিল্লাল। এই দুজন সার্বক্ষণিক আশুলিয়া থানার প্রধান গেটে ওৎ পেতে থাকেন। থানায় কোনো সাধারণ মানুষ সেবা বা আইনি প্রয়োজনে আসলেই তারা নিজেদের ‘অ্যাডভোকেট শামীমা নাজনীনের অ্যাসিস্ট্যান্ট’ হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর বাচ্চু মন্ডলের মার্কেট ও সেখানকার ল-চেম্বারগুলোর প্রভাব দেখিয়ে বড় বড় মামলা বা তদবিরের নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি ও ব্ল্যাকমেইল করে আসছেন।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট শামীমা নাজনীনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিদ্দিক ও বিল্লালের ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট’ পরিচয়ের দাবিটি সরাসরি নাকচ করে দেন। অ্যাডভোকেট শামীমা নাজনীন জানান, “বিল্লাল মূলত আমাদের রাইটার্স (নবিশ/লেখক)।” আইনজীবীর এমন বক্তব্যের অডিও কল রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে সংরক্ষিত রয়েছে।
আইনজীবীর ভুয়া অ্যাসিস্ট্যান্ট পরিচয় এবং থানার গেটে সাধারণ মানুষকে ‘জ্বালিয়ে খাওয়ার’ এই অপকর্মের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের উদ্যোগ নিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মার্কেটের মালিক বাচ্চু মন্ডল। তিনি সরাসরি সাংবাদিক সিয়ামকে হাত-পা ভেঙে দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন। একই সাথে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, “নিউজ ডিলিট কর, না হলে আমরা সবাই মিলে তোকে ফাঁসিয়ে দিবো।”
এদিকে ঘটনা ভিন্ন খাতে মোড় নিতে চক্রের অন্যতম সদস্য বিল্লাল উল্টো অপপ্রচার শুরু করেছেন যে, সাংবাদিক নাকি নিউজ কাটার জন্য ২০ হাজার টাকা দাবি করেছেন—যা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। মূলত নিজেদের জালিয়াতি, দালালির সাম্রাজ্য ও হুমকি প্রদানের অপরাধ আড়াল করতেই সাংবাদিকের ওপর এই মিথ্যা অপবাদ চাপানোর অপচেষ্টা চলছে।
সার্বিক বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরুকুলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
“আমি এই থানায় নতুন এসেছি, তাই এ বিষয়ে তেমন কিছু জানি না। আপনি যেহেতু পুরো বিষয়টি বললেন, আমি খোঁজ নিচ্ছি।”
থানার গেটে ও সামনের মার্কেটের ল-চেম্বারগুলোর নাম ভাঙিয়ে প্রকাশ্যে দালালি, সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন গণমাধ্যমকর্মীকে প্রকাশ্য হুমকি ও মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার এই ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। দ্রুত এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।

কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীর মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে ২।

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীর মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে ২।

তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | সকালের বার্তা।

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বসতবাড়ির জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলার অভিযোগে নাসিমা খাতুন (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত নাসিমা খাতুন ওই এলাকার শহিদুলের স্ত্রী।

নিহতের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির জমি নিয়ে স্থানীয় প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ভোরে মসজিদপাড়া এলাকার জনে শেখের ছেলে মোমিনের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল তাঁদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

নিহতের মা আলেয়া খাতুনের অভিযোগ, হামলার সময় নাসিমা খাতুন বাধা দিতে এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত আকরাম তাঁকে ধাক্কা দেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তাঁর পুত্রবধূর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন নিহতের স্বজনেরা।

কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম জানান, নারীর মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে,ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বহিষ্কারের জেরে বিস্ফোরণের অভিযোগ, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিন।

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বহিষ্কারের জেরে বিস্ফোরণের অভিযোগ, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিন।

তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিস্ফোরণের ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা চলাকালে ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সূত্রপাত পরীক্ষার হল থেকে। পুলিশ ও শিক্ষার্থী সূত্রের বরাতে জানা যায়, নির্বাচনী পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ পাঁচ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করেন। এ সময় পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে তানজিন রহমান রিদু নামে এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।

এরপর ওই শিক্ষার্থী কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে বিদ্যালয়ের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ফিলিপনগর ইউনিয়নে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খাজা আহমেদের নাম উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানার ওসি।

অভিযোগের বিষয়ে খাজা আহমেদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, পরীক্ষার হলে নিয়ম ভঙ্গের কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে। এরপর বিদ্যালয়ের পাশে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদের নাম পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পেছনের কারণ উদ্‌ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

মিরপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে বন্ধ মেট্রো-স্টেশন

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
মিরপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে বন্ধ মেট্রো-স্টেশন

মো: অমিত হাসান ঢাকা, ঢাকা মহানগর প্রতিনিধি

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাক শ্রমিকেরা। মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখার বিষয়টি এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা যায়, সকাল থেকেই মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেওয়ায় মেট্রোরেলের যাত্রী ও স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশনটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনে কোনো ট্রেন থামছে না এবং যাত্রী ওঠানামাও করানো হচ্ছে না। তবে মেট্রোরেলের অন্য স্টেশনগুলোতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনটি পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছে এমআরটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম।