ডিজিটাল উসকানিতে নৃশংসতা পিটিয়ে হত্যা ‘শামীম বাবা’কে
ছবি- ফাইল
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর গ্রামে আধ্যাত্মিক সাধক আব্দুর রহমান শামীম (স্থানীয়ভাবে ‘শামীম বাবা’ নামে পরিচিত)কে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি পুরনো ভিডিও বিকৃতভাবে ছড়িয়ে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত শনিবার দুপুরে উত্তেজিত জনতা শামীমের আস্তানায় অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা দরজা-জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। একপর্যায়ে শামীমকে একটি কক্ষ থেকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে এনে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। ঘটনাটির নৃশংসতায় হতবাক স্থানীয়রা।
জানা গেছে, আব্দুর রহমান শামীম উচ্চশিক্ষিত হলেও এক পর্যায়ে তিনি সুফিবাদ ও বাউল দর্শনের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে আধ্যাত্মিক চর্চায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। তার আস্তানায় নিয়মিত সুফি সংগীত ও আধ্যাত্মিক আলোচনার আয়োজন হতো। তবে তার কিছু রূপকধর্মী বক্তব্য ও সাধনার ধরণ স্থানীয়দের একটি অংশের কাছে বিতর্কিত ছিল।
অনুসারীদের দাবি, একটি পুরনো ভিডিওর খণ্ডিত অংশ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাকে ধর্মবিদ্বেষী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। প্রেক্ষাপটহীন এই প্রচারণা দ্রুত মানুষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়, যা শেষ পর্যন্ত সহিংসতায় রূপ নেয়। সচেতন মহলের মতে, এই ঘটনা ‘ডিজিটাল মবিং’-এর ভয়াবহ উদাহরণ।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ফিলিপনগর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে উসকানিদাতাদেরও আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ভিন্নমতের কারণে কাউকে এভাবে হত্যা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে আইনের শাসন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
















