শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

চিকেন নেক করিডরে ভিনরাজ্যের গাড়িতে কড়া নজরদারি, টাস্কফোর্স গঠনের পথে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার।

সুমন গাঙ্গুলী, পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:০০ পিএম
চিকেন নেক করিডরে ভিনরাজ্যের গাড়িতে কড়া নজরদারি, টাস্কফোর্স গঠনের পথে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার।

কলকাতা, ১২ ফেব্রুয়ারি: উত্তরবঙ্গের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেন নেক’ করিডর দিয়ে চলাচলকারী ভিনরাজ্যের গাড়িগুলির উপর নজরদারি বাড়াতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। পরিবহণ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হতে পারে।
এ-ই করিডর দিয়েই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে পণ্যবাহী ও অন্যান্য যানবাহন যাতায়াত করে। বর্তমানে অসম সীমান্তের বারোবিশা ও কোচবিহারের বক্সিহাটে চেকপোস্ট থাকলেও সেখানে মূলত ওভারলোডিং বা আইনভঙ্গ সংক্রান্ত বিষয়গুলি পরীক্ষা করা হয়। দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও জিএসটি সংক্রান্ত নজরদারির ঘাটতির কারণে পরিবেশ দূষণ এবং রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে প্রশাসনের ধারণা।
এই পরিস্থিতিতে নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত টাস্কফোর্সে পরিবহণ দপ্তরের আধিকারিকদের পাশাপাশি রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রতিনিধিদেরও অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের সঙ্গে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের
পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী জানিয়েছেন, “সমস্ত গাড়ি নিয়ম মেনে চলাচল করছে কি না, তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। ভুটান থেকে বোল্ডার নিয়ে বহু গাড়ি বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে যায়। সেগুলি সঠিক নিয়ম মেনে পণ্য বহন করছে কি না এবং প্রযোজ্য কর দিচ্ছে কি না, তা কড়াভাবে নজরদারিতে আনা হবে।”
ওয়েস্ট বেঙ্গল মোটর ভেহিকেলস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের উত্তরবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অঙ্কুর চক্রবর্তী বলেন, নজরদারি বাড়লে দুর্ঘটনার হার কমবে এবং মুখ্যমন্ত্রীর ‘সেভ ড্রাইভ, সেফ লাইফ’ কর্মসূচি আরও কার্যকর হবে। তাঁর মতে, এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থারও আরও সক্রিয় হওয়া এবং রাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।
এদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির দাবি, কেন্দ্রীয় উদ্যোগের অপেক্ষা না করে রাজ্য সরকার যেন দ্রুত টাস্কফোর্স গঠন করে। তাঁদের মতে, বাংলার ভৌগোলিক পরিকাঠামো ব্যবহার করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি ব্যবসা করলেও রাজ্য পর্যাপ্ত কর পাচ্ছে না, ফলে রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পরিবহণ দপ্তর সূত্রে খবর, নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং রাজস্ব সংরক্ষণ—এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েই বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব এগোচ্ছে। শীঘ্রই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে। ( ছবি – ১)পরিবহন মন্ত্রী।
২) চিকেন নেক

On Thu, 12 Feb 2026, 5:33 pm Sokaler Barta, wrote:
https://www.facebook.com/share/p/1ZR3vkE1Z3/

On Thu, Feb 12, 2026, 3:06 PM SUMAN ER LOKGAAN wrote:
কোর্টে মমতা, ভোটে প্রভাব: তৃণমূলের রক্ষা-রাজনীতি সামনে আনল ‘ ব্র্যান্ড মমতা ‘
-সুমন গাঙ্গুলী-

নিজে হাজির হলেন সুপ্রিম কোর্টে। করলেন মানুষের দাবি নিয়ে সওয়াল। দিলেন মাস্টার্স স্ট্রোক। এস আই আর মামলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপে কার্যত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে মাঠে নেমে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অন্দরমহলের ব্যাখ্যা, রাস্তায়-ঘাটে রাজনীতির গুরুত্ব তাত্ত্বিক বিতর্কের চেয়ে বেশি—এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন ‘দিদি’। আর সেই সূত্রেই বিরোধীদের এক কদম পিছনে রেখে এগিয়ে থাকার কৌশল।

তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের মতে, শীর্ষ আদালতে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ একাধিক লক্ষ্য পূরণ করেছে। প্রথমত, বাংলায় বিজেপির বিরুদ্ধে প্রধান মুখ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান আরও পোক্ত হল। দ্বিতীয়ত, বিজেপি-বিরোধী ভোট একত্রিত করার পাশাপাশি সিপিএম ও কংগ্রেসকে কোণঠাসা করা গেল—বিশেষ করে আদালতে হাজিরার পর বাম শিবিরের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া সেই ফাঁকটাই সামনে এনেছে। তৃতীয়ত, নানা ইস্যুতে ক্ষুব্ধ হিন্দু মধ্যবিত্তের একাংশ এবং নারী ভোটারদের কাছে নতুন করে আবেদন তৈরি হয়েছে। চতুর্থত, ওয়াকফ সংশোধনী ও নতুন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর উত্থান ঘিরে সংখ্যালঘু সমাজে যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল, তা প্রশমিত করে আস্থা ফেরানোর চেষ্টা—বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতির মাঝেই নিজের মূল ভোটব্যাঙ্ক সুরক্ষিত রাখার বার্তা।

এতেই শেষ নয়। জাতীয় রাজনীতির মঞ্চে তৃণমূলের উচ্চতা বাড়ানোর দিকেও ইঙ্গিত মিলছে। বিজেপি-বিরোধী শিবিরের অন্যান্য অ-বিজেপি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা যেখানে শীর্ষ আদালতে সরাসরি লড়াইয়ে নামেননি, সেখানে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি তৃণমূলকে আলাদা করে চোখে পড়ার জায়গায় এনে দিয়েছে। পাশাপাশি, দলের ভিতরে যাঁরা নিষ্ক্রিয় বা দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিলেন, তাঁদেরও এক ছাতার তলায় আনার ‘ইউনিফাইং মোমেন্ট’ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে শাসকদল। ২০২৬-এর ভোটের দিকে ইঙ্গিত করে এক তৃণমূল নেতা বলেন, “এই লড়াই আদালতের চার দেওয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৬ সালে ভোট হবে কে মানুষের পাশে দাঁড়াল, আর কে দিল্লির নির্দেশে রাজনীতি করল—সেই প্রশ্নে।”

প্রসঙ্গত, রাজ্যের ৭ কোটি ৬২ লক্ষ ভোটারের তালিকা হালনাগাদের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত ৫৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে—কারণ হিসেবে উঠে এসেছে স্থানান্তর, ডুপ্লিকেশন বা মৃত্যুর তথ্য। পাশাপাশি, ‘লজিক্যাল ইনকনসিসটেন্সি’ বা ২০০২ সালের এসআইআর লিঙ্কেজ না থাকার অভিযোগে ১ কোটি ২৬ লক্ষ নাগরিককে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লক্ষের শুনানি এখনও বাকি।

এই গোটা প্রক্রিয়া শুরুর সময় বিজেপি প্রথমে নীরব ছিল। ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ নীতি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ এড়িয়ে চলেছিল তারা। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের শুনানির পর ছবিটা বদলায়। আদালতে বিচারপতিদের মন্তব্য ও মুখ্যমন্ত্রীর দাবি খারিজ হওয়ার অংশ তুলে ধরে ভিডিও ক্লিপ ছড়াতে শুরু করে বিজেপি। শামিক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার, তরুণজ্যোতি তিওয়ারি থেকে শুভেন্দু অধিকারী—একাধিক বিজেপি নেতা মমতার আদালতকক্ষের আচরণকে ‘রাজনৈতিক নাটক’ বলে কটাক্ষ করেন। ভাষণ, পোশাক, ইংরেজি উচ্চারণ—সব নিয়েই বিদ্রুপের পাশাপাশি অভিযোগ ওঠে, তাঁর শাসনে বাংলায় গণতন্ত্র বিপন্ন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইনি দিক থেকে এই হাজিরা হয়তো মামলার গতিপথ বদলাবে না। এক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৌশলগত অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংঘাতকে তিনি শুধু আইনি লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ রাখছেন না, বরং তা রাজনৈতিক পরিচয় নির্মাণের হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে ভোটার তালিকার গরমিলে নোটিস পাওয়া আতঙ্কিত মানুষের সঙ্গে নিজের অবস্থানকে যুক্ত করে তিনি ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আবেগী মেরুকরণকে জোরদার করছেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিশ্বজিৎ দাসের কথায়, “একদিকে একা লড়াই করা নেত্রীর ভাবমূর্তি আরও দৃঢ় করে নিজের মূল সমর্থকভিত্তি শক্ত করছেন মমতা। অন্যদিকে, কেন্দ্রের কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিপরীতে তুলনামূলক কম আক্রমণাত্মক ও সহানুভূতিশীল মুখ তুলে ধরে ‘মমতা ব্র্যান্ড’কে এমন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন, যাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা বিজেপির পক্ষে সহজ নয়।”।

সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান

ধামরাই মডেল প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৬ পিএম
ধামরাই মডেল প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন

সভাপতি সিরাজুল ইসলাম-সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান জাহিদ

ঢাকার ধামরাই মডেল প্রেসক্লাবের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে চ্যানেল এস টিভির ধামরাই প্রতিনিধি মোঃ সিরাজুল ইসলামকে সভাপতি এবং দৈনিক দেশের কণ্ঠ পত্রিকার ধামরাই প্রতিনিধি মোঃ জাহিদুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ধামরাই মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে মৌখিক নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

নবগঠিত কমিটির অন্যান্য পদে রয়েছেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান(মিজান), সহ-সভাপতি মোঃ মোজাম্মেল হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মশিউজ্জামান মুবীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মাসুদ রানা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মনিরুজ্জামান, অর্থ সম্পাদক মোঃ বাবু শেখ, প্রচার সম্পাদক জাহিদুর রহমান , সহ-দপ্তর সম্পাদক মোছাঃ তানজিলা আক্তার, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রূপা আক্তার ইতি, সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক কাজল আক্তার সান্তনা এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোঃ সুমন উদ্দীন হাওলাদার।

এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন মোঃ হাবিবুর রহমান (হাবিব), মোঃ আলামিন, মোঃ জাকির, মোঃ সুমন মিয়া ও মোঃ রাসেল হোসাইন।

সাধারণ সভায় বক্তারা বলেন, ধামরাই মডেল প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের পেশাগত ঐক্য, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় কাজ করবে। একই সঙ্গে ধামরাইয়ের বিভিন্ন সমস্যা, অনিয়ম, দুর্ভোগ ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সৌহার্দ্য ও ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকতার নীতি ও দায়িত্বশীলতা বজায় রেখে ধামরাইয়ের মানুষের কথা তুলে ধরাই হবে প্রেসক্লাবের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এজন্য স্থানীয় সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

গুরুদাসপুরে সাংবাদিকদের সাথে নবাগত  ওসির মতবিনিময়

সজিবুর রহমান নাটোর প্রতিনিধি: প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৮ পিএম
গুরুদাসপুরে সাংবাদিকদের সাথে নবাগত  ওসির মতবিনিময়
নাটোরের গুরুদাসপুরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আঃ হান্নান। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলাম এবং থানার ওসি (তদন্ত) রিয়াজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময়কালে সাংবাদিকরা গুরুদাসপুরে মাদক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, চুরি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন।
গুরুদাসপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করে নবাগত ওসি মোঃ আঃ হান্নান বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং অপরাধ নির্মূল করা পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
তিনি বলেন, মাদক নির্মূল ও অপরাধ দমনে সাংবাদিকরা সবসময় পুলিশের পাশে থেকে সহযোগিতা করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা করেন তিনি। মানবিক সমাজ গঠন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অপরাধ নির্মূলে পুলিশ ও সাংবাদিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ, ওসি (তদন্ত) রিয়াজুল ইসলাম, সাংবাদিক আলী আককাছ, সাজেদুর রহমান, রাশিদুল ইসলাম, আব্দুস সালাম, জুয়েল হাসান টিপু,সজিবুর রহমান সহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে ওসি মোঃ আঃ হান্নান বলেন, তিনি গত ১৫ আগস্ট গুরুদাসপুর থানায় যোগদান করেছেন। যোগদানের পর এ পর্যন্ত ১৩ জন মাদকসেবী ও ৫ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। ডোপ টেস্টের মাধ্যমে মাদকসেবী শনাক্ত করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাও দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো পুলিশ সদস্যের মাদক কারবারিদের সঙ্গে সখ্যতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া ইভটিজিং প্রতিরোধে বালিকাসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সামনে দুই ঘণ্টা করে বিশেষ নজরদারি, মহাসড়কে রাতের বিশেষ টহল জোরদার, থানার সামনে ডিউটি অফিসারের নম্বর প্রদর্শন এবং নিয়মিত ওপেন হাউজ ডেসহ বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আগামীতে প্রতি মাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ ধরনের মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হবে বলেও জানান নবাগত ওসি মোঃ আঃ হান্নান।

গড়াইয়ের বুকে নৌকাবাইচ, বৈঠার ছন্দে মাতল কুষ্টিয়া

তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:  প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ পিএম
গড়াইয়ের বুকে নৌকাবাইচ, বৈঠার ছন্দে মাতল কুষ্টিয়া

Screenshot

কুষ্টিয়ার গড়াই নদীতে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াই ঘাট বড় বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই গড়াই নদীর দুই তীরে মানুষের ঢল নামে। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে হাজারো দর্শক উপভোগ করেন নৌকার দৌড়। বৈঠার ছন্দ আর প্রতিযোগী নৌকার দ্রুতগতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় উৎসবের মিলনমেলায়।

আয়োজকরা জানান, এবারের প্রতিযোগিতায় কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি সিরাজগঞ্জ, পাবনা, সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিযোগী দল অংশ নিয়েছে। এখন পর্যন্ত সাতটি নৌকা প্রতিযোগিতায় নিবন্ধন করেছে। দূরদূরান্ত থেকে প্রতিযোগী ও দর্শনার্থীরা আসায় আয়োজনটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।

প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের জন্য রাখা হয়েছে আকর্ষণীয় পুরস্কার। প্রথম স্থান অর্জনকারী দল পাবে Yamaha FZ Version-2 মোটরসাইকেল। দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে রয়েছে Pulsar 150, তৃতীয় পুরস্কার Hero 100 এবং চতুর্থ পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে Walton ফ্রিজ। এছাড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক নৌকার জন্য রয়েছে ৩২ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন।

আয়োজক কমিটির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নৌকার দৈর্ঘ্য কমপক্ষে ৫০ হাত হতে হবে। সিঙ্গেল বডি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে না। প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত বিষয়ে কমিটির সর্বশেষ সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে জানানো হয়েছে।

নৌকাবাইচের উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। উদ্বোধক ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আনছার আলী প্রামাণিক ও সাধারণ সম্পাদক মো. লুফকর রহমান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অতিথিদের বক্তব্যের পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। এরপর একে একে প্রতিযোগী নৌকাগুলো গড়াইয়ের বুকে ছুটে চলে। নৌকার গতি ও বৈঠার নিখুঁত ছন্দ দেখতে নদীর দুই পাড়ে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গ্রামবাংলার প্রাচীন নৌকাবাইচের ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এ সংস্কৃতিকে তুলে ধরতেই এ আয়োজন। প্রতিযোগিতাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে।

নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতা পরিচালনা করছেন মুহায়াদ রেজা ফাহিম, পরিচালক, দি চেঞ্জার অব কমার্স।