বাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে স্থানীয় যুব সমাজের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ....
বকশীগঞ্জে দশআনী নদীতে নৌকা বাইচের উদ্বোধন, উল্লাসে মাতোয়ারা হাজারো মানুষ
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের সাজিমারা নয়াপাড়া খেয়াঘাট সংলগ্ন দশআনী নদীতে শুক্রবার (১০ জুলাই) উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। সাজিমারা যুব সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে সকাল থেকেই নদীর দুই তীরে হাজারো দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসে বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ লোকজ ক্রীড়া উপভোগ করেন।
প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বাঁশকান্দা মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ঢাকার কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম (বিকট)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মমতাজুর রহমান (মমতাজ)। প্রধান অতিথি ছিলেন বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও জামালপুর জেলা জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেড মোকাম্মেল হক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মজিবর রহমান (মজি), নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান (ফর্সা), উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুবাইদুল ইসলাম শামীম, নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শরীফ উদ্দিন শরীফ, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম, নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি আশিকুর রহমান সিলিম, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম রবিন, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আল-আমিন, নিলক্ষিয়া শ্রমিক দলের সভাপতি ইসমত দোহা হিটলার, মিজানুর রহমান শান্তসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিযোগিতায় ময়মনসিংহের মহিষমারী থেকে ‘স্বাধীন বাংলা’, জামালপুরের সরিষাবাড়ী থেকে ‘একতা’ এবং শেরপুরের ৭ নম্বর চর এলাকা থেকে ‘উড়াল পাখি’ ও দুরন্ত’সহ বিভিন্ন এলাকার নৌকা অংশগ্রহণ করে। বৈঠার তালে তালে মাঝিদের প্রাণবন্ত প্রতিযোগিতা, ঢাক-ঢোলের বাদ্য, দর্শকদের করতালি ও উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো দশআনী নদী। নদীর দুই তীরে উপচে পড়া ভিড় উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
দর্শনার্থী মো. রাসেল বলেন, “নৌকা বাইচ আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অন্যতম অংশ। প্রতিবছর এমন আয়োজন হলে নতুন প্রজন্মও আমাদের শেকড় ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।”
আরেক দর্শনার্থী মো. রিপন বলেন, “অনেক দিন পর এত বড় নৌকা বাইচ দেখতে পেরে খুব ভালো লাগছে। হাজারো মানুষের উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নৌকা বাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনধারার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ ধরনের আয়োজন গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণ, সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং নতুন প্রজন্মের কাছে দেশীয় সংস্কৃতি তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উল্লেখ্য, প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দলের জন্য প্রথম পুরস্কার হিসেবে একটি মোটরসাইকেল এবং দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে একটি মহিষ ঘোষণা করা হয়েছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।













