প্রতারণার অভিযোগে উর্মি আক্তারকে ঘিরে নানা প্রশ্ন, সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ
চট্টগ্রামের আনোয়ারা এলাকায় উর্মি আক্তার নামে এক নারীর বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনকে কেন্দ্র করে প্রতারণা, প্রেমের সম্পর্কের নামে হয়রানি এবং সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একাধিক ভুক্তভোগীর দাবি, বিভিন্ন সময় ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্র ধরে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন উর্মি আক্তার। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত উর্মি আক্তার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৪ জুলাই সকাল ১১টা ৫২ মিনিটে একটি বিকাশ এজেন্ট নম্বরে ২ হাজার টাকা এবং সর্বশেষ ৫ আগস্ট রাত ৯টা ৫ মিনিটে আরেকটি বিকাশ নম্বরে ১০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। এছাড়াও আরও কয়েক দফায় অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, টাকা নেওয়ার পর অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগে সমস্যা তৈরি হয় এবং তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে মনে করছেন।
অভিযোগকারীদের মধ্যে সোলায়মান, শাখাওয়াত হোসেন, সাজ্জাদ হোসেন বাবলু, ইয়াছিন, খাইরুল, জিশান, কাইয়ুম, আরফাত, মো. সিদ্দিক, মামুন, নাছির উদ্দিন, নাঈম উদ্দিন, মিনহাজ উদ্দিন, মো. নয়ন, আরিফুল ইসলাম, রাকিব, ফারুক, মিজান, সাজান, আজিজ, নুর আলম, রকিব, মো. ইস্তেহার ইসলাম, লুকমান হাকিম, মো. মিজান, আর জে রাসেল ভয়েস কিং, মো. ফারুক, মো. সাহাদাত হোসেন, মো. মহিউদ্দিন, মো. হানিফ ও শাহেদসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন যুবক একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, উর্মি আক্তারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দিয়েছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ আগস্ট এক সাংবাদিকের কাছে একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে নিজেকে আনোয়ারা থানার এসআই জুয়েল পরিচয় দিয়ে উর্মি আক্তারের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিক মো. আবু বক্কর সিদ্দিক। পরে বিষয়টি যাচাই করতে গিয়ে ওই ব্যক্তি আদৌ আনোয়ারা থানার এসআই জুয়েল কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েদ বলেন, উর্মি আক্তার থানায় আসার বিষয়টি তার জানা নেই। একই সঙ্গে এসআই জুয়েলের সঙ্গে ওই তরুণীর যোগাযোগের বিষয়েও তিনি অবগত নন বলে জানান। ফলে ফোনকারী ব্যক্তি সত্যিই পুলিশের সদস্য ছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে উর্মি আক্তারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি তার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এর আগে গত ১৫ জুন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উর্মি আক্তারকে নিয়ে একটি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে জানা গেছে। ওই বৈঠকে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রহিম, বাদশা মিয়া, উর্মি আক্তারের বড় ভাই টিপু, মেজ ভাই সাজ্জাদ হোসেনসহ স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
সালিশি বৈঠকে উর্মি আক্তার নিজের ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে কোনো যুবকের সঙ্গে এ ধরনের সম্পর্ক বা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—এমন দাবি করেছেন বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন। তবে পরবর্তীতে তিনি ওই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে উর্মি আক্তারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি টিকটক অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন যুবকের সঙ্গে ছবি ও ভিডিও রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। এসব বিষয় নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও সঙ্গে ছবি বা ভিডিও থাকা মাত্রই কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয় না—এ বিষয়টিও সংশ্লিষ্টদের বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কোনো নারী শ্রমিক বা ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে হেয় না করে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন, সেই প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি সাংবাদিককে পুলিশ পরিচয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তদন্ত করে ফোনকারী ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে উর্মি আক্তারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপরই প্রকৃত ঘটনা নির্ভর করছে।












