উন্নয়নের সুফলের অপেক্ষায় দুর্ভোগের যন্ত্রণা
একদিকে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ, অন্যদিকে সীমাহীন ভোগান্তি। গ্রিন সিটি ও ক্লিন সিটি হিসেবে পরিচিত রাজশাহী এখন যেন উন্নয়নের ‘প্রসব-যন্ত্রণায়’ কাতর। নগরীর বিভিন্ন সড়কে ওয়াসার পানির পাইপলাইন স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিংয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণসহ একাধিক প্রকল্পের কাজ চলছে। আর এসব কাজের প্রভাব পড়ছে নগরবাসীর দৈনন্দিন চলাচলে।
নগরীর কোথাও সড়ক কেটে বসানো হচ্ছে পানির পাইপ, কোথাও সড়কের একাংশ বন্ধ করে চলছে নির্মাণকাজ। দীর্ঘদিন খোঁড়াখুঁড়ির পরও অনেক জায়গায় সড়ক সংস্কার না হওয়ায় সৃষ্টি হচ্ছে কাদা ও ধুলাবালি। বৃষ্টি নামলেই খোঁড়া সড়কে জমছে পানি ও কাদা, আর রোদ উঠলেই ধুলায় ধূসর হয়ে যাচ্ছে চারপাশ।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চারটি গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিংয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ। নির্মাণকাজের কারণে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়ায় ব্যস্ত সময়ে যানজট তৈরি হচ্ছে। পথচারী ও যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় নগরবাসীর দুর্ভোগও দীর্ঘ হচ্ছে।
নগরবাসীর ভাষ্য, উন্নয়নকাজ নিয়ে তাদের আপত্তি নেই। বরং নগরীর দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য এসব প্রকল্প জরুরি। কিন্তু কাজের ধীরগতি, অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে ভোগান্তি অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
এক নগরবাসী বলেন, “উন্নয়ন দরকার, কিন্তু রাস্তা দীর্ঘদিন খোঁড়া থাকায় আমাদের চলাচলে অনেক সমস্যা হচ্ছে। বৃষ্টি হলে কাদা, আর রোদ হলে ধুলাবালিতে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।”
শুধু পথচারী নয়, এসব নির্মাণকাজের প্রভাব পড়ছে নগরীর যান চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও। ব্যস্ত সড়কে জায়গা কমে যাওয়ায় ধীরগতির যান চলাচল, দীর্ঘ যানজট এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
নগরীর পানি সংকট ও সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়নে ওয়াসার পানির পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চলছে বিভিন্ন এলাকায়। পদ্মার পানি শোধন করে নগরবাসীর কাছে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এ প্রকল্পের মাধ্যমে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরবাসীর জন্য নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পথ তৈরি হবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়ে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির কারণে যে দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে, সেটি দ্রুত কমাতে কাজের গতি বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন নগরবাসী।
রাজশাহী নগরীর গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিংগুলোতে যানজট কমাতে নির্মাণ করা হচ্ছে চারটি ফ্লাইওভার। এসব ফ্লাইওভার চালু হলে রেলগেটকেন্দ্রিক যানজট অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনটি ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ চলতি বছরের শেষ নাগাদ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে শহীদ কিছু জায়গায় এখনও ফ্লাইওভারের কাজ শেষ করতে আরও সময় লাগতে পারে।
উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল পেতে হলে কিছুটা সাময়িক দুর্ভোগ মেনে নিতে হয় ,এ কথা মানছেন নগরবাসীও। কিন্তু সেই দুর্ভোগ যখন দীর্ঘায়িত হয়, তখন প্রশ্ন ওঠে কাজের পরিকল্পনা, গতি ও সমন্বয় নিয়ে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, উন্নয়নকাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণাধীন সড়কগুলো পর্যায়ক্রমে সংস্কার, ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণ এবং যান চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
কারণ উন্নয়নের সুফল পেতে নগরবাসী প্রস্তুত। কিন্তু সেই সুফলের অপেক্ষায় প্রতিদিনের নগরজীবন যেন দীর্ঘদিন ‘প্রসব-যন্ত্রণায়’ না থাকে এটাই এখন রাজশাহীবাসীর দাবি।












