মাতোয়ারা দিনাজপুরের লিচুর স্বাদে: বৈরী আবহাওয়াতেও ৯০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের হাতছানি
স্বাদ, রস আর অতুলনীয় সুগন্ধে বরাবরই দেশজুড়ে সমাদৃত দিনাজপুরের লিচু। মধুমাসের এই রসালো ফলের মৌসুম এখন পুরোদমে চলছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার ফলন কিছুটা কম হলেও, দেশজুড়ে তুমুল চাহিদার কারণে জমজমাট হয়ে উঠেছে দিনাজপুরের লিচুর হাটগুলো। দামও মিলছে বেশ ভালো। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে শুধু দিনাজপুর থেকেই প্রায় **৯০০ কোটি টাকার** লিচু বাণিজ্যের স্বপ্ন দেখছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী কালীতলা নিউমার্কেট লিচুর হাটে গিয়ে দেখা যায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ। ভোর থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত ভ্যান ও ইজিবাইকে করে বাজারে আসছে থোকা থোকা লাল টুকটুকে সতেজ লিচু।
ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাজারে সবচেয়ে বেশি কদর মাসিমপুর এলাকার বোম্বাই, বেদানা ও চায়না-৩ জাতের লিচুর। ঈদের পর বাজারে লিচুর সরবরাহ কিছুটা কমলেও, দেশব্যাপী চাহিদার কোনো ঘাটতি নেই।
এক নজরে হাটে লিচুর বর্তমান বাজারদর (প্রতি ১০০টি):
লিচুর জাত | বর্তমান দাম (টাকা) |
| চায়না-৩| ১,৪০০ থেকে ১,৬০০ |
| বেদানা| ৭০০ থেকে ৯০০ |
| কাঁঠালি | ৭০০ থেকে ৮০০ |
| বোম্বাই | ৪০০ থেকে ৪৫০ |
লিচু ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা জানান, এ বছর তীব্র দাবদাহ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক বাগানে লিচুর আকার ও ফলন আশানুরূপ হয়নি। তবে দেশজুড়ে ‘দিনাজপুরের লিচুর’ যে নিজস্ব ব্র্যান্ড ভ্যালু রয়েছে, তার কারণে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন চাষিরা।
ফলন কম হওয়ার হতাশা কাটছে ভালো দামে। সব প্রতিকূলতা ছাপিয়ে চলতি মৌসুমে এই ৯০০ কোটি টাকার বিশাল বাণিজ্য জেলার হাজারো লিচু চাষি, দিনমজুর ও ব্যবসায়ীর অর্থনীতি চাঙ্গা করবে বলেই আশা করা হচ্ছে।












