পীরগঞ্জের কুমেদপুর ইউনিয়নে টেন্ডার ছাড়াই উন্নয়ন সহায়তা তহবীলের কাজ সম্পন্ন
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কুমেদপুর ইউনিয়নে টেন্ডার ছাড়াই ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবীলের কাজ দায় সারা ভাবে সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে তিন ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। এমনকি কাজের বিষয়ে জানেই না ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান, ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় (এলজিইডি)।
বিধিতে উল্লেখ রয়েছে, বরাদ্দকৃত এই অর্থ পরিষদে সিদ্ধান্ত নিয়ে জনকল্যাণমুলক প্রকল্প নির্বাচন করে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে প্রাক্কলন তৈরী পুর্বক ইউনিয়ন পরিষদ টেন্ডার কিংবা আরএফকিউ এর মাধ্যমে ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজের পূর্বেই জিপিএস ক্যামেরা ছবি সংরক্ষণ করে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে হবে| অথচ ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম, আনিছার রহমান নীতিমালার তোয়াক্কা না করে নিজেদের ইচ্ছে মতো কাজ করছেন| অপর দিকে ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য দেবব্রত অধিকারী দেবু পুরাতন কাজকে সংস্কার করে বিল ভাউচার জমা দিয়েছেন। যেখানে প্রাক্কলনের সাথে কাজের কোন মিল নাই|
এ দিকে
ওই ৩ জন ইউপি সদস্য কাজ করার বিষয় জানেন না উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগ, ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা|
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুমেদপুর ইউনিয়নে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বরাদ্দকৃত ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকার বাস্তবায়িত পৃথক ৩ টি প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র| প্রকল্প গুলোতে এলাকার ইউপি সদস্যর নিজেদের ইচ্ছে মতো প্রকল্প গ্রহনের পর জোড়াতালির মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করেছেন| অথচ সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রকৌশলী এমনকি সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী প্রকৌশলী এসব প্রকল্প সম্পর্কে কোন তথ্যই অবগত নন| কুমেদপুর ইউনিয়নের একই অর্থ বছরে কাঞ্চনপুর গ্রামে শহিদুলের বাড়ি হতে পুরাতন মসজিদ ও পাকা রাস্তা হতে মুন্নার বাড়ি পর্যন্ত পাইপ দিয়ে ড্রেন নির্মানে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলে ইউপি সদস্য দেবু পূর্বের করা কাজ জোড়াতালি দিয়ে কাজ সম্পন্ন করে বিলের আবেদন করেছেন| ৩নং ওয়ার্ডের মিঠারপাড়া মহিদুলের বাড়ি হতে আখিরা ব্রীজ পর্যন্ত রাস্তা সলিং করন কাজে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হলে ইউপি সদস্য আনিছার রহমান কাজ সম্পন্ন করে বিলের আবেদন করেছেন| ১নং ওয়ার্ডের মাহমুদপুর তালিমখানা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাকা রাস্তা হতে বাবুল মাষ্টারের বাড়ী গামী রাস্তাসংস্কার ও সলিং করণে ৩ লাখ ৪০ হাজার| কুমেদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সৌমিক হাসান জানান, তিনি এসব কাজ সম্পর্কে কোন তথ্যই অবগত নন| কাজ করার পূর্বে জিপিএস ক্যামেরা দিয়ে ছবি সংরক্ষন করতে হবে|
ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার ইউনিয়নের কাজ অথচ আমি নিজেই জানি না|কাজের উদ্বোধন হলো কবে ? কবে শেষ হলো ? টেন্ডার বা আরএফকিউ কবে হলো ? এসব আমি কিছুই জানি না| কুমেদপুর ইউপি’র দায়িত্ব থাকা উপ সহকারী প্রকৌশলী মোকলেছার রহমান বলেন-উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমি প্রাক্কলন করে দিয়েছি| কিন্তু কবে কাজ শুরু হলো, কবে শেষ হলো এসব আমি অবগতও নই|










