নাছের উচ্চ বিদ্যালয়ে তিন শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নাছের উচ্চ বিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষকের বিদায় উপলক্ষে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে দীর্ঘ কর্মজীবনের অবদান ও স্মৃতিচারণে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
শনিবার দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত শিক্ষক-অভিভাবক ও শিক্ষার্থী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনের সংসদ সদস্য ফখরুল ইসলাম।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী ফারুকের সভাপতিত্বে এবং হাজী মো. ইব্রাহীমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া বিনতে কাশেম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ দিদার হোসেন এবং উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার ও মুছাপুর ইউনিয়ন প্রশাসক তানিম রহমান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোশায়েদুর রহমান মিলন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন কোম্পানীগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আমির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মিজানুর রহমান, সমাজসেবক আবদুর রহিম, বিএনপি নেতা আলমগীর মিয়া, আবদুল মোতালেব, বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. তৌহিদুল আলম পলাশ, পুলিশ কর্মকর্তা শেখ কামাল, মাদরাসা শিক্ষক মাহমুদুর রহমান হিমেলসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও সুধীজন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি ফখরুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। একটি জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সরকার শিক্ষার প্রসার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।”
তিনি আরও বলেন, “নাছের উচ্চ বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। এ প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থী দেশ-বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি ভবিষ্যতে আরও সাফল্যের শিখরে পৌঁছাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বিদায়ী শিক্ষকদের দীর্ঘ কর্মজীবন, সততা, নিষ্ঠা, শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতা এবং প্রতিষ্ঠান গঠনে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, একজন শিক্ষক কখনো অবসর নেন না; তাঁর জ্ঞান ও আদর্শ সমাজে চিরকাল বেঁচে থাকে।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রধান শিক্ষক আতিক উল্যা, সহকারী প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার মজুমদার এবং সহকারী শিক্ষক আবুল কাশেম-কে তাঁদের দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার প্রদান করা হয়।












