তীব্র গরমে আখের রসে স্বস্তির খোঁজ
উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে তীব্র তাপপ্রবাহ। গ্রীষ্মের শেষভাগে সূর্যের চোখ রাঙ্গানিতে টেকাই দায়। ঘরে বা বাইরে সবাই সূর্যের প্রখর তাপের কাছে অসহায়। তীব্র গরমে বিপর্যস্ত জনজীবন। গরমে হাঁসফাঁস করছে ছোট-বড় সবাই। একটু প্রশান্তির খোঁজে অস্থির মন। সকাল শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রখর রোদ আর তপ্ত বাতাসে তৈরি হচ্ছে চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। দুপুরের দিকে রোদের তীব্রতা এতটাই বাড়ছে যে, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে যাচ্ছে না। এতে রাস্তা-ঘাটে লোকসমাগম অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে।
অস্বস্তিকর এই গরমে কদর বাড়ছে আখের রসের। গ্লাসভর্তি আখের রসে গলা ভিজিয়ে একটু স্বস্তি খুঁজছে মানুষ। বগুড়ার আদমদীঘির বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ছোট ছোট আখ মাড়াই মেশিনের আশপাশে মানুষের ভিড়। প্রতি ছোট গ্লাস আখের রস ১০ এবং বড় গ্লাস ২০ টাকা। এই তীব্র গরমে বিক্রিও হচ্ছে অনেক। বিশেষ করে, বাজার, রেলস্টেশন, বিপণী বিতাণ, মেলা,স্কুল-কলেজ, বাসষ্ট্যান্ড, পার্ক ও রেলগেটের পাশে বসেছে অস্থায়ী আখের রসের দোকান।
সদরের জিনইর গ্রামের আখের রস বিক্রেতা বকুল হোসেন। গত ৩০ বছর যাবৎ তিনি ঘুরে ঘুরে বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় আখের রস বিক্রি করছেন। তিনি জানান, ‘গরমে মানুষ কাহিল। আখের রসে চুমুক দিয়ে তৃষ্ণা মিটাচ্ছেন। সেজন্য চাহিদা বেড়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আখের রস বিক্রি করছি।’
তিনি আরও জানান, ‘সকাল থেকেই ক্রেতারা আসতে শুরু করে। তবে দুপুরে ভীড় সবচেয়ে বেশি হয়। তীব্র গরম থেকে একটু শান্তি পেতেই মানুষ আখের রস পান করে।’
আরেক বিক্রেতা জানান, ‘প্রতিদিনই রস বিক্রি করে ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হচ্ছে। তবে শীত ও বৃষ্টির দিনে এই ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ থাকে। শুধু পথচারী বা তরুণরাই নন, স্কুলগামী শিশুদের কাছেও আখের রসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।’
হাফিজুল ও আরিফ নামের দুই বন্ধু আখের রস খেতে এসেছে আদমদীঘি বাজারে। তারা জানান, গত ১০ দিন থেকে প্রচণ্ড গরম পরছে। অস্থির হয়ে যাচ্ছি। জীবন যায় যায় অবস্থা। পিপাসাও লাগছে। তাই আখের রস খাচ্ছি। দুই গ্লাস ২০ টাকা। তবে এখন একটু স্বস্তি অনুভব করছি।’
জামাল নামের আরেকজন বলেন, ‘১৫ দিন ধরে জ্বর, সর্দি ও কাশি। কিছুই খেতে ভালো লাগছে না। তাই আখের রস খেতে এসেছি। গ্রীষ্মের এই দুপুরে এক গ্লাস আখের রস শরীর ও মন দুটোই শীতল করে দেয়।’












