মাগুরার শ্রীপুরে দুই গ্রামের সংঘর্ষের ঘটনা মীমাংসা, রোববার বসবে পূর্ণাঙ্গ বৈঠক
ছবি- সকালের বার্তা
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার দরিয়াপুর ও তারাউজিয়াল গ্রামের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি এবং পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে প্রাথমিকভাবে মীমাংসা হয়েছে।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সাচিলাপুর বাজারে মোবাইলে ফ্লাক্সিলোড দেওয়াকে কেন্দ্র করে দরিয়াপুর ও তারাউজিয়াল গ্রামের দুই যুবকের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে একপর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।
শুক্রবার রাতের ঘটনার পর শনিবার সকাল ১০টার দিকে দুই গ্রামের অধিবাসীরা আবারও মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায় এবং বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত উদ্যোগ নেন। শনিবার সকালে হাট দরিয়াপুর সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনে দুই পক্ষকে নিয়ে এক জরুরি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত মীমাংসা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেনমাগুরা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: নাহিয়ান, শ্রীপুর থানা অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মো: ওলি মিয়া, মাগুরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খান হাসান ইমাম সুজা, শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বদরুল আলম হিরো, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আব্বাস উদ্দিন ও মুন্সী রেজাউল করিম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম নালিম ও মো: মাসুদ মজুমদার, মোল্লা খলিলুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান মিয়া ছমিরুন ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ মোল্লা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মুন্সী জাহাঙ্গীর হোসেন, সাবেক আহ্বায়ক এম মকির হাসান এবং সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান, সব্দালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শরিফুল ইসলাম সাচ্চু এবং দরিয়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি প্রদীপ ও সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান শেখ, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুন্সী ইয়াসিন আলী সোহেলসহ দুই গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বৈঠকে মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: নাহিয়ান এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খান হাসান ইমাম সুজা দুই পক্ষের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করবে। আইন নিজের হাতে তুলে নিলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বৈঠক শেষে উভয় গ্রামের নেতৃবৃন্দ সাচিলাপুর বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের নির্ভয়ে এবং নির্বিঘ্নে দোকানপাট খোলা রাখাসহ দৈনন্দিন কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।








