দিনাজপুরের উন্নয়নের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম: বেগম খুরশীদ জাহান হক
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন ইতিহাসে যে কজন রাজনীতিবিদের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়, তাঁদের মধ্যে অন্যতম সাবেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী বেগম খুরশীদ জাহান হক। দিনাজপুরবাসীর কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং স্নেহের ‘চকলেট আপা’।
১৯৯১ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন শুরু করেন তিনি। পরে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে দিনাজপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
দিনাজপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তাঁর নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের ক্ষেত্রে। তাঁর সময়েই হাজী মোহাম্মদ দানেশ কৃষি কলেজকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার কার্যক্রম চূড়ান্ত রূপ পায়। জাতীয় সংসদে বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হয় ২০০১ সালে এবং সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয় ২০০২ সালে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম উদ্বোধনের সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িত।
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সম্প্রসারণ, উত্তরাঞ্চলে উন্নত চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধি এবং হৃদরোগ চিকিৎসা সেবার প্রসারে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
এছাড়া দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড, বিকেএসপি আঞ্চলিক কার্যক্রম, শিল্পায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগে তাঁর সক্রিয় সম্পৃক্ততার কথা আজও স্মরণ করেন জেলার মানুষ। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি, মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তিনি সরকারের উচ্চপর্যায়ে দিনাজপুরের স্বার্থ তুলে ধরেছিলেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন।
২০০৬ সালে তাঁর মৃত্যুর পর দুই দশক পেরিয়ে গেলেও দিনাজপুরের মানুষের স্মৃতিতে তিনি এখনো একজন উন্নয়নমুখী, সাহসী ও জনদরদী নেত্রী হিসেবে অম্লান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর কর্মময় জীবনের স্মৃতি।
দিনাজপুরের উন্নয়নের ইতিহাসে বেগম খুরশীদ জাহান হক শুধু একজন রাজনীতিবিদের নাম নয়; তিনি একটি সময়ের প্রতীক, একটি উন্নয়ন দর্শনের প্রতিচ্ছবি এবং উত্তরাঞ্চলের মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় এক আলোকবর্তিকা।












