জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে পাংশায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত।
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের হাবাসপুর খেয়াঘাট এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও তবারক বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৩১ মে) বাদ আসর হাবাসপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী, সমর্থক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি ছিল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হারুন অর রশিদ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান রাজা, পাংশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ আলী খান, সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল আলম আকুল, রেজাউল করিম রিংকুসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। পরে উপজেলা ও জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবন, দেশপ্রেম, রাষ্ট্রগঠন এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে তাঁর অবদানের নানা দিক তুলে ধরেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হারুন অর রশিদ পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের স্বপ্নদ্রষ্টা। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় ২৬টি জেলা ও ১৬২টি উপজেলা উপকৃত হবে। তিনি স্থানীয় জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে এ অঞ্চলের মানুষের কোনো ক্ষতি হবে না। বাজেট পাসের পর চলতি বছরেই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান অতিথি রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর তাঁর বক্তব্যে বলেন, সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি ও অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে আজ বাংলাদেশ যে অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে, তার ভিত্তি নির্মাণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দেশের নদীসম্পদ, নদী ব্যবস্থাপনা ও চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়েও বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত মানুষের দৃষ্টি বিশেষভাবে কাড়েন হারুন অর রশিদ। প্রতিবারের মতো এবারও তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দিলেও বক্তব্য দেওয়া ছাড়া দীর্ঘ সময় মঞ্চে অবস্থান না করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থাকেন। অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে এসে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে সময় কাটান এবং সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন। দোয়া ও মোনাজাতের সময়ও তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে একসঙ্গে অংশ নেন।
তাঁর এমন সরল ও আন্তরিক আচরণে উপস্থিত সাধারণ মানুষ মুগ্ধ হন। স্থানীয়দের অনেকেই বলেন, একজন রাজনৈতিক নেতাকে এত সহজভাবে মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে দেখা সত্যিই আনন্দের। এতে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া এবং আরাফাত রহমান কোকো-এর জন্যও দোয়া করা হয়।
সবশেষে অনুষ্ঠানে আগত অতিথি, নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়। পুরো আয়োজন শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।












