টানা ভারী বর্ষণে ফেনী সহ তলিয়ে যাচ্ছে ৬টি উপজেলা বোর ধান,বিপাকে কৃষক
কৃষকরা যখন বোরো ধান কাটার উৎসবে ব্যস্ত ছিল ঠিক সেইসময় তাদের আনন্দে হঠাৎই ছন্দপতন ঘটিয়েছে টানা অতিবৃষ্টি।
গত দুইদিনের ভারী বর্ষণে হাওরের নিম্নাঞ্চলে পানি জমে গেছে। বিশেষ করে জেলার ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া, দাগনভূঞ, সোনাগাজী উপজেলার মুহুরী, সিলনীয়, কহুয়া নদীর পানি ঢুকে তলিয়ে যাচ্ছে পাকা ধানক্ষেত। ফলে কৃষকের সোনালী ফসলের সাথে স্বপ্নুলোও যেনো তলিয়ে যাচ্ছে পানির নিচে।
অতিবৃষ্টির কারণে শুধু কৃষকের ফসলের জমিই নয়, ধান শুকানোর খলাগুলোতপও পানি জমেছে। এতে ধান মাড়াই ও সংরক্ষণেও দেখা দিয়েছে চরম ভোগান্তি। এমন পরিস্থিতিতে এখানকার কৃষকদের যেনো দিশেহারা হয়ে যাওয়ার অবস্থা।
এদিকে ফেনী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানান, ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১২০-১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের দিন সোমবার ২৪ ঘণ্টায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। পাশাপাশি বুধবারও (২৯ এপ্রিল) একই অবস্থায় বষ্টিপাতে ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিতে জেলার বিস্তীর্ণ হাওর এলাকায় নিম্নাঞ্চলের বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় পানি নামেনি, বরং কোথাও কোথাও আরও বাড়ছে। পরশুরাম ৩২২২৩ হেক্টর জমিতে বোরে ধান চাষাবাদ করা হয় এতে ক্ষতির পরিমাণ তিন হেক্টর , ফুলগাজীতে ৪৩৪২ একটার জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ করা হয় এতে ক্ষতির পরিমাণ ৩০ হেক্টর, উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব এলাকাতেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। জমিতে পানি বেড়ে যাওয়ায় যন্ত্র দিয়ে ধান কাটা ব্যাহত হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ৬টি উপজেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮১ হেক্টর জমিতে। এ বছর জেলায় চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮৬ টন।
বিভিন্ন উপজেলা প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা যায় এলাকার কৃষকরা বলছেন , অতিবৃষ্টিতে আমাদের এলাকার শত শত একর ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। অনেক জমিতে পানি বেড়ে যাওয়ায় মেশিন দিয়ে ধান কাটা যাচ্ছে না। চোখের সামনে কষ্টের ফসলুলো পানির তলে ডুবে যাচ্ছে, আমরা অসহায়ের মতো শুধু তাকিয়ে দেখছি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আতিকু উল্ল্যা জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।















