সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের উৎসব: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গহিন বনে মৌয়ালরা
ছবি- সকালের বার্তা
পহেলা এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে বিশ্বখ্যাত ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের মধু সংগ্রহের মধু মাস। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে গহিন অরণ্যে প্রবেশ করতে শুরু করেছেন উপকূলীয় অঞ্চলের মৌয়ালরা।
বাঘের ভয় ও বেঁচে থাকার লড়াই সুন্দরবন উপকূলের শত শত পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস এই মধু। তবে এই আয়টুকু করতে গিয়ে তাদের মোকাবিলা করতে হয় চরম অনিশ্চয়তা। সুন্দরবনের দক্ষিণ ও পশ্চিম বন বিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জ দিয়ে মৌয়ালরা ছোট ছোট নৌকায় করে দলে দলে বনে প্রবেশ করছেন। একদিকে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ভয়, অন্যদিকে কুমির আর বিষধর সাপের আতঙ্ক—সবকিছুকে তুচ্ছ করে শুধু জীবিকার তাগিদে তারা ছুটে চলেছেন মৌচাকের সন্ধানে।
নিরাপত্তা ও দস্যু আতঙ্ক মৌয়ালদের ভাষ্যমতে, “বনের ভেতর বাঘের ভয় তো আছেই, তার ওপর অজানা পথে দস্যুদের ভয়ও আমাদের পিছু ছাড়ে না। তবুও পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে আমরা বনবিবির ওপর ভরসা করে বনে ঢুকি।” মৌয়ালরা আশা করছেন, এবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে এবং তারা নির্বিঘ্নে মধু সংগ্রহ করতে পারবেন।
বনবিভাগের নির্দেশনা বনবিভাগের পক্ষ থেকে মৌয়ালদের জন্য জারি করা হয়েছে কঠোর নির্দেশনা। নির্দিষ্ট সীমানার বাইরে না যাওয়া এবং মধু সংগ্রহের সময় মৌমাছি বা বনের পরিবেশের ক্ষতি না করার জন্য তাদের সতর্ক করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বনে আগুন ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও বিশেষ সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অপেক্ষা একটি সফল মৌসুমের উপকূলীয় জনপদে এখন বইছে উৎসব আর উৎকণ্ঠার মিশ্র হাওয়া। ঘরে ঘরে স্বজনদের জন্য চলছে দোয়া আর অপেক্ষা। সুন্দরবনের এই অমূল্য সম্পদ সংগ্রহ করে মৌয়ালরা যেন সুস্থ ও নিরাপদে ফিরে আসতে পারেন, এটাই এখন উপকূলবাসীর প্রধান প্রার্থনা। আমাদের সবার কাম্য, মৌয়ালদের এই হাড়ভাঙা খাটুনির বিনিময়ে আসা মধু যেন বাজারে সঠিক মূল্য ও সম্মান পায়।










