পরিবেশ অধিদপ্তরের গণবিজ্ঞপ্তি: শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ
শব্দদূষণ রোধে নতুন করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এ লক্ষ্যে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়ে একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) প্রকাশিত এ গণবিজ্ঞপ্তি পরিবেশ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও প্রকাশ করা হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শব্দদূষণ মানুষের স্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই বিধিমালায় নির্ধারিত শব্দের সর্বোচ্চ মাত্রা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও অন্যান্য এলাকার জন্য নির্ধারিত শব্দমাত্রার বেশি শব্দ সৃষ্টি করা যাবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, উচ্চ শব্দ উৎপন্নকারী কোনো যন্ত্রপাতি বা কর্মকাণ্ড বিধিমালায় নির্ধারিত সীমার বাইরে পরিচালনা করা যাবে না। কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া পার্বণ, মেলা বা জনসমাবেশে উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার নিষিদ্ধ। অনুমতি থাকলেও শব্দের মাত্রা ৯০ ডেসিবেলের বেশি এবং সর্বোচ্চ পাঁচ ঘণ্টার বেশি ব্যবহার করা যাবে না।
এছাড়া নির্ধারিত শব্দমাত্রা অতিক্রমকারী হর্ন উৎপাদন, আমদানি, মজুত, বিক্রয়, প্রদর্শন, বাজারজাতকরণ, পরিবহন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ এবং পটকা, আতশবাজিসহ যেকোনো ধরনের শব্দদূষণ সৃষ্টিকারী কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আবাসিক এলাকায় রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হর্ন বাজানো যাবে না। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য নীরব এলাকায় লাউডস্পিকার বা উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া আবাসিক এলাকার ৫০০ মিটারের মধ্যে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত নির্মাণকাজে উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাবে না।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, শব্দদূষণ সংক্রান্ত বিধিমালা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও শাস্তি প্রদান করতে পারবেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর শব্দদূষণ রোধে সকল নাগরিককে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি বিধিমালা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।











