শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

মাদারীপুরে ২৪৩ বছরের ঐতিহ্য কুন্ডুবাড়ির মেলা

নাজমুল হাসান,মাদারীপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩১ পিএম
মাদারীপুরে ২৪৩ বছরের ঐতিহ্য কুন্ডুবাড়ির মেলা

ছবি- সকালের বার্তা

​মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় দীপাবলি ও কালীপূজা উপলক্ষে আয়োজিত হচ্ছে ঐতিহাসিক কুন্ডুবাড়ির মেলা। ১৭৮৩ সালে দীননাথ ও মহেশ কুন্ডুর হাত ধরে শুরু হওয়া এই মেলা এ বছর ২৪৩ বছরে পদার্পণ করেছে। সময়ের সাথে সাথে এটি কেবল হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং দক্ষিণবঙ্গের সব ধর্মের মানুষের এক বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

★​মেলার বিশেষত্ব ও আকর্ষণ:
★​বিশাল পরিধি: ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই মেলা বসে।
★​কাঠের আসবাবপত্র: মেলাটি মূলত টেকসই ও সুন্দর নকশার কাঠের আসবাবপত্রের জন্য দেশজুড়ে বিখ্যাত।
★​পণ্যের বৈচিত্র্য: হস্তশিল্প, মাটির তৈজসপত্র, বাঁশ-বেতের সামগ্রী এবং শিশুদের বিনোদনের জন্য নাগরদোলা মেলার প্রধান আকর্ষণ।
★​অর্থনৈতিক প্রভাব: দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে পসরা সাজান। এটি স্থানীয় অর্থনীতি ও গ্রামীণ কারিগরদের আয়ের একটি বড় উৎস।

মেলার আয়োজকরা জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব দীপাবলি ও কালীপূজা। এই পূজার আয়োজন ঘিরে ১৭৮৩ সালে ভুরঘাটা এলাকার দীননাথ কুন্ডু ও মহেশ কুন্ডু এই মেলার প্রবর্তন করেন। তাই কুন্ডুদের বংশের নামানুসারে এই মেলার নামকরণ করা হয় কুন্ডুবাড়ির মেলা। সেই সময় দীপাবলির পরের দিন এই অঞ্চলের বিভিন্ন কালী প্রতিমা জড়ো করা হতো। এর মধ্যে যাদের প্রতিমা সেরা হতো, তাদের পুরস্কার দেওয়া হতো। সেই সময় চিত্তবিনোদনের জন্য পুতুলনাচ, কবিগান, জারিগান, পালাগান, নৌকা বাইচের আয়োজন করা হতো। কালের বিবর্তনে পালাগান, জারিগান, নৌকাবাইচ বন্ধ থাকলেও নাগরদোলার আয়োজন এখনো রয়েছে। বংশপরম্পরায় প্রতি বছর এই মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। কালকিনি পৌর এলাকার গোপালপুরের কুন্ডু বাড়িতে এ মেলার সূচনা হয়। দীপাবলি ও কালীপূজা ঘিরে ধর্মীয় আয়োজন হিসেবে শুরু হলেও সময়ের পরিক্রমায় এটি এখন বৃহৎ লোকজ উৎসবে পরিণত হয়েছে। এখন শুধু প্রতিমা প্রদর্শনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের মিলনমেলা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে মেলা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মেলা বসে প্রতি বছর। শুধু কুন্ডুবাড়ি নয়, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গোপালপুর থেকে ভুরঘাটা পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে বসে শত শত দোকান। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দোকানিরা বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন। কাঠের বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্রের জন্য এই মেলা বিখ্যাত। মেলায় মাদারীপুর ছাড়াও ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, বরিশাল, খুলনা, বাগেরহাট, মাগুরা, যশোর, নড়াইলসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা মাটির, বাঁশের ও কাঠের তৈরি বিভিন্ন মালামাল বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। এখন ফার্নিচারের চাহিদাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

কুন্ডুবাড়ি মন্দির কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, কালীপূজার পরের দিন থেকেই মূলত মেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। তবে পূজার কয়েকদিন আগে থেকেই মেলার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। তারা কাঠের আসবাবপত্র, মাটির তৈজস, বাঁশ ও বেতের তৈরি পণ্যসহ নানা ধরনের গ্রামীণ সামগ্রী নিয়ে পসরা সাজান। পূজার আগ থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের আসা-যাওয়া শুরু হয়। মেলার দিনগুলোতে কুন্ডু বাড়ি এলাকা রূপ নেয় জনসমুদ্রে। দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ এই মেলায় অংশ নিতে আসেন।

মেলার সময় পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মুখর থাকে পুরো এলাকা। বেচাকেনাও চলে জমজমাট। বিশেষ করে কাঠের তৈরি আসবাবপত্র মেলার অন্যতম আকর্ষণ। এখানকার তৈরি কাঠের খাট, আলমারি, চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি ক্রেতাদের কাছে সমাদৃত। পাওয়া যায় নানা ধরনের হস্তশিল্প, খেলনা, মাটির পণ্য, গ্রামীণ ব্যবহার্য সামগ্রী এবং খাদ্যদ্রব্য। শিশু-কিশোরদের জন্য থাকে নাগরদোলা, খেলাধুলা ও বিনোদনের আয়োজন। সবমিলিয়ে মেলা পরিণত হয় প্রাণবন্ত উৎসবে। এটি এখন কেবল বাণিজ্যিক কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গ্রামীণ কারিগর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বড় বাজার হিসেবেও ধরা দিয়েছে। যেখানে তারা সরাসরি ক্রেতাদের কাছে তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারেন। অনেকের জন্য মেলাটি বছরের অন্যতম আয়ের উৎস।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, মেলাটি দক্ষিণবঙ্গের সর্ববৃহৎ। দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে আসেন অনেকে। এত বড় মেলা চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবে না অনেকের। এখানে সব ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়।

৩৫ বছর ধরে মেলায় আসবাবপত্র বিক্রি করে আসছেন সমীর দাশ। তিনি বলেন, ‘ক্রেতাদের চাহিদা বুঝে বিভিন্ন ডিজাইনের আসবাবপত্র মেলায় নিয়ে যাই। অনেক কাঠের দোকান বসে মেলায়। সবারই টার্গেট থাকে কম দামে বেশি পণ্য বিক্রি করার। এজন্য বিক্রিও বেশি হয়। প্রতিদিন বহু মানুষ জিনিসপত্র কিনতে আসেন।’

মেলার আয়োজন নিয়ে কুন্ডুবাড়ির সদস্য বলরাম কুন্ডু বলেন, ‘বাপ-দাদার আমল থেকে দেখে আসছি এখানে মেলা হয়। তবে ঠিক কবে থেকে শুরু হয়েছিল, তা আমাদের জানা নেই। বাপ-দাদারা করে গেছেন তাই আমরাও করছি। পূজা উপলক্ষে প্রতি বছর কার্তিক মাসে মেলার আয়োজন করা হয়। গত ২০ অক্টোবর ১৫টি শর্ত দিয়ে দুই দিনের জন্য মেলার অনুমতি দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। আগে সাধারণত পাঁচ-ছয় দিনব্যাপী মেলা হতো। এখন সরকার যে কয়দিনের অনুমতি দেয়, সে কয়দিনই মেলা হয়।’

কালকিনির ভূরঘাটা কুন্ডুবাড়ি কালীমন্দিরের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি স্বপন কুমার কুন্ডু বলেন, ‘কুন্ডুবাড়ির মেলা আমাদের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য বহন করে আসছে। হিন্দু-মুসলিম সবার সহযোগিতা ও অংশগ্রহণে এটি বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। এটি শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা চাই এই ঐতিহ্য প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ুক।’

শ্রমিক অসন্তোষের কারণে পোশাক খাতে দেড় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
শ্রমিক অসন্তোষের কারণে পোশাক খাতে দেড় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

ছবিঃ বাংলা ভিশন

শ্রমিক অসন্তোষের আগুনে পুড়ছে পোশাক খাত। সরকারের গঠন করা মজুরি বোর্ড কাজ শুরু করার পরও আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন-এফবিসিসিআই। এই আন্দোলন শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্ত নয় এমন দাবি তাদের। অথচ এর জেরে পোশাক খাতের ক্ষতি ছাড়িয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকায়। দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতায় নতুন ক্রয়াদেশ হারানোর পাশাপাশি রফতানিতে নিতে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এমন আশঙ্কা অর্থনীতিবিদের।

মজুরি বাড়ানোর দাবিকে ঘিরে রাজপথসহ শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন ঘিরে উত্তপ্ত রফতানি আয়ের প্রধান উৎস-তৈরি পোশাক খাত।

নতুন বেতন-ভাতা নির্ধারণে মজুরি বোর্ড কাজ শুরু করার পরেও শ্রমিক অন্তোষের যৌক্তিক কারণ দেখছে না এফবিসিসিআই। এই আন্দোলনের ধরণ ও সহিংসতা দেখে প্রশাসক জানিয়েছেন, এটা শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার স্বাভাবিক প্রতিফলন নয়।

পোশাক শিল্প মালিকদের দাবি, কয়েকদিনের টানা আন্দোলনে পাঁচ শতাধিক কারখানার উৎপাদন বন্ধের ফলে ক্ষতি ছাড়িয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকা। সহসাই অসন্তোষ না থামলে নতুন ক্রয়াদেশ বাতিলের পাশাপাশি রপ্তানি কমার শঙ্কা বিশ্লেষকদের। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পোশাক শিল্পে সংকট মানে শুধু কারখানা মালিকের লোকসান নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের জীবিকা। তাই অসন্তোষ নিরসনে দ্রুত মজুরি নির্ধারণের তাগিদ বিশ্লেষকদের।

শাকিল ইসলামের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গণমিছিল ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২১ এএম
শাকিল ইসলামের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গণমিছিল ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

সজিবুর রহমান নাটোর প্রতিনিধি :

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলামের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গণমিছিল ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে ধারাবারিষা ইউনিয়নের নয়াবাজারে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় সংলগ্ন খোলা মাঠে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ৫ নং ধারাবারিষা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান হেনা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুর রহমান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম বিপ্লব, মশিন্দা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম রফিক, নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শামসুল আলম, চাপিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজী রেজাউল করিম, খুবজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি দোরাপ আলী সরকার, বিয়াঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম, চাপিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাফর ইকবাল নয়ন, মশিন্দা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান খোকন এবং ধারাবারিষা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন কাউছার।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চাপিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শামীম আহম্মেদ, উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. মাসুদ রানা প্রামাণিক, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলিম প্রামাণিক, নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুর রহমান রাজা, খুবজীপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. রাজু আহমেদ, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সদস্য মো. ইসরাফিল শেখ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. শামীম আহম্মেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক রাঙ্গা মোল্লা, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রিপন শিংসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ধারাবারিষা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. রুবেল হাসান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হামলার শিকার হন শাকিল ইসলাম।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হেলমেট ও মাস্ক পরিহিত দুই যুবক মোটরসাইকেলে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে প্রথমে গুলি ছোড়ে। প্রাণভয়ে শাকিল দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে। পরে চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ দিন পর, গত ২৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে মারা যান শাকিল।
নিহত শাকিল ইসলাম গুরুদাসপুর পৌর সদরের কাচারিপাড়া এলাকার রবিউল করিমের ছেলে। তিনি স্থানীয় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।

দোয়া মাহফিলে বক্তারা শাকিল ইসলামের স্মৃতিচারণ করে তাঁর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। এ সময় তাঁরা তাঁর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সবশেষে মরহুম শাকিল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২০ এএম
আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

মোঃ রাজিব মিয়া মুরাদনগর উপজেলা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করেছে, আরেকটি দল জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা করছে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

সোমবার (২ নভেম্বর) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে ধর্মমন্ত্রীর নিজস্ব তহবিল থেকে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, “আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করেছে, আরেকটি দল জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা করছে। আমরা ব্যবসা করতে চাই না। তারেক রহমান পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, যার যার সম্মান তাকে দিতে হবে। জুলাই চেতনাকে ভিত্তি করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে যারা মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, তাদেরও যথাযথ সম্মান জানাতে হবে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা একজন মুক্তিযোদ্ধা, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান।”

নিজের চিকিৎসার প্রসঙ্গ তুলে ধর্মমন্ত্রী বলেন, “আমি এবং আমার পরিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি আমার চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ ছুটি দিয়েছিলেন।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি দেশের জন্য অনেক পরিশ্রম করেন। একদিন অফিস সময়ের পর তাঁর সঙ্গে কথা বলার সময় দেখেছি, তিনি অত্যন্ত ক্লান্ত। কিন্তু তাঁর কথাবার্তায় ক্লান্তির কোনো ছাপ ছিল না। তিনি সব সময় বাংলাদেশের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কথা চিন্তা করেন। তারই প্রতিফলন হিসেবে তিনি কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালুর ব্যবস্থা করেছেন। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের ভাতার ব্যবস্থাও করেছেন।”

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, আল্লাহ যেন তাঁকে সব ধরনের ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করেন।

মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব হাসান খান। সহকারী শিক্ষক শারমিন ফাতেমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুরাদনগর, বাঙ্গরা বাজার ও তিতাস সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলম তালুকদার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ পাভেল খান পাপ্পু, সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র দে, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন ও সদস্যসচিব মোল্লা মুজিবুল হক প্রমুখ।

এ সময় উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।