রোয়াইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ
রোয়াইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ
ঢাকার ধামরাই উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অনিয়ম, দুর্নীতি ও বহিরাগতদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি ভূমি অফিসে সেবাপ্রত্যাশীদের সরাসরি সরকারি সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও সেখানে ইব্রাহিম, জসিম ও সোহেল রানা নামে তিন বহিরাগত ব্যক্তির নিয়মিত উপস্থিতি এবং নামজারি ও রেকর্ড রুমের বিভিন্ন কাজে তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহের সময় রোয়াইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রেজাউল করিমের কাছে অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা এবং নিয়মিত যাতায়াতকারী বহিরাগতদের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। এ সময় তিনি স্টাফের সংখ্যা ও বহিরাগতদের বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি এ বিষয়ে প্রতিবেদককে নিজেই খুঁজে দেখার কথা বলেন বলে জানা গেছে।
একটি সরকারি দপ্তরে অনুমোদিত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা এবং সেখানে দায়িত্ব পালনকারী জনবলের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকে সুস্পষ্ট তথ্য না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে সরকারি অফিসে বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত থাকলে তাদের পরিচয়, দায়িত্ব ও কাজের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইব্রাহিম, জসিম ও সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে রোয়াইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নিয়মিত যাতায়াত করেন এবং ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে প্রভাব বিস্তার করেন। বিশেষ করে নামজারি ও রেকর্ড রুমের বিভিন্ন কাজেও তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
তবে তারা ভূমি অফিসের অনুমোদিত কর্মকর্তা-কর্মচারী কি না, কিংবা সরকারি কোনো দায়িত্বে তাদের নিয়োগ রয়েছে কি না এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
যদি তারা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী না হয়ে থাকেন, তাহলে সরকারি ভূমি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে তাদের প্রবেশ ও কাজ করার সুযোগ কীভাবে তৈরি হয়েছে এ প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সেবাপ্রত্যাশীরা।
বিশেষ করে রেকর্ড রুম সরকারি ভূমি-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষণের একটি সংবেদনশীল স্থান। সেখানে অনুমোদনহীন ব্যক্তিদের প্রবেশাধিকার থাকলে সরকারি নথির নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
অভিযোগ রয়েছে, ভূমি অফিসকেন্দ্রিক বিভিন্ন কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে ইব্রাহিম, জসিম ও সোহেল রানা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে তাদের সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ, আয়ের উৎস কিংবা সম্পদ বৈধ উপায়ে অর্জিত হয়েছে কি না এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আয়-ব্যয়, সম্পদ ও ভূমি অফিসকেন্দ্রিক সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে প্রশাসনিক তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
নামজারি, খতিয়ান, রেকর্ড সংশোধনসহ ভূমি-সংক্রান্ত সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ যেন সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সেবা পান এটাই সরকারি ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু কোনো সরকারি অফিসে বহিরাগত বা মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব তৈরি হলে সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়।
রোয়াইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তাদের প্রশ্ন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার পরও যদি বহিরাগত ব্যক্তিদের মাধ্যমে সরকারি ভূমি-সংক্রান্ত কাজ পরিচালিত হয়ে থাকে, তাহলে তাদের দায়িত্ব ও ক্ষমতার উৎস কী? তারা কার অনুমতিতে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হচ্ছেন?
রোয়াইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসা জরুরি। অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে; আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে তদন্তের মাধ্যমেই তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
তদন্তে বিশেষভাবে রোয়াইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অনুমোদিত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা, বহিরাগতদের পরিচয় ও ভূমিকা, নামজারি ও রেকর্ড রুমে তাদের প্রবেশাধিকার এবং ভূমি-সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে তাদের কোনো আর্থিক সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
এ ছাড়া অভিযোগে উল্লিখিত ইব্রাহিম, জসিম ও সোহেল রানা সরকারি কোনো পদে না থাকলে তারা কীভাবে ভূমি অফিসের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হলেন এবং কার অনুমোদনে অফিসের বিভিন্ন কাজে অংশ নিচ্ছেন এ বিষয়েও প্রশাসনিকভাবে ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
সরকারি ভূমি অফিস কোনো ব্যক্তি, বহিরাগত বা কথিত দালালচক্রের প্রভাবের অধীনে পরিচালিত হওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারী ও বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি নথিপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা ভূমি প্রশাসন ও ঢাকা জেলা ভূমি প্রশাসনের বক্তব্য এবং কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় সেবাপ্রত্যাশীরা।
তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত ইব্রাহিম, জসিম ও সোহেল রানার বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন ভূমি কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।















