শ্রীবরদীতে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে ইউএনওর কাছে এলাকাবাসীর স্মারকলিপি
Oplus_131072
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার রাণীশিমূল ইউনিয়নের ভায়াডাঙ্গা পুরান পাড়া এলাকায় মাদকের বিস্তার বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন স্থানীয় তরুণ ও বয়োজ্যেষ্ঠরা। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত স্মারকলিপি দেওয়ার পাশাপাশি মাদক কারবারে জড়িত বলে অভিযোগ থাকা কয়েকজনের নামের তালিকাও জমা দিয়েছেন তারা।
স্মারকলিপিতে স্থানীয়রা উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্যের বেচাকেনা চলে আসছে। কখনো প্রকাশ্যে আবার কখনো আড়ালে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ায় এলাকার পরিবেশ ক্রমেই নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ মাদকের প্রতি ঝুঁকে পড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদের মধ্যে।
এলাকাবাসীর দাবি, মাদকাসক্তির প্রভাব পড়ছে সামাজিক জীবনেও। মাদকের টাকা সংগ্রহ করতে গিয়ে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বাড়ছে বলে অভিযোগ তাদের। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
স্মারকলিপি প্রদানকারীদের একজন তরুণ জানান, মাদকের ভয়াবহ প্রভাবে এলাকার অনেক তরুণের স্বাভাবিক জীবন ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিজেদের বসতভিটা ও আশপাশের পরিবেশ মাদকমুক্ত রাখতে স্থানীয় তরুণরা এখন সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিয়েছেন। এর অংশ হিসেবেই প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় মাদক সেবন ও বিক্রির বিরুদ্ধে আগে কয়েকবার সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এ ধরনের উদ্যোগ নিতে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ভয়ভীতি ও হুমকির সম্মুখীন হতে হয়েছে। ফলে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবার প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা চেয়েছেন তারা।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসা ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান কঠোর। স্থানীয়দের দেওয়া অভিযোগ ও তালিকা যাচাই-বাছাই করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মাদকের বিরুদ্ধে স্থানীয় তরুণদের এমন সম্মিলিত উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এলাকার সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, শুধু প্রশাসনের অভিযান নয়, পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও তরুণদের সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে উঠলে মাদকের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এজন্য প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকেও আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।













