শ্যামনগরের বিভিন্ন নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, ঝুঁকিতে বেড়িবাঁধ ও উপকূলীয় জনপদ
ছবি- সকালের বার্তা
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন নদী থেকে আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে নির্বিচারে ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। একটি প্রভাবশালী চক্র নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিন-রাত নদীগর্ভ থেকে বালু তুলে বিক্রি করছে। এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের টেকসই বেড়িবাঁধ, ফসলি জমি এবং গ্রামীণ রাস্তাঘাট চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
নদী ভাঙনের হাত থেকে এলাকা রক্ষা করতে এবং পরিবেশের এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঠেকাতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শ্যামনগরের বিভিন্ন নদী তীরবর্তী পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার কারণে নদীর তলদেশ গভীর হয়ে যাচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পাড়ের বেড়িবাঁধগুলোর ওপর। সামান্য জোয়ারের চাপ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগেই এই দুর্বল বেড়িবাঁধগুলো ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পাশাপাশি, নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় নদীপাড়ের শত শত বিঘা ফসলি জমি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ড্রাম ট্রাক ও ভারী যানের মাধ্যমে এই বালু পরিবহনের কারণে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা রাস্তাগুলোও ভেঙে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।
অবৈধ ড্রেজারের বিকট শব্দ এবং বালু পরিবহনের ফলে সৃষ্ট ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার আপত্তি জানানো সত্ত্বেও বালু খেকো চক্রটি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
“নদী থেকে এভাবে বালু কাটতে থাকলে যেকোনো মুহূর্তে আমাদের ঘরবাড়ি নদীতে তলিয়ে যাবে। আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। প্রশাসন যেন দ্রুত এই ড্রেজারগুলো বন্ধ করে আমাদের বাঁচায়।”
— নদী পাড়ের একজন বাসিন্দা
শ্যামনগরের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা এবং ভাঙন কবলিত উপকূলবাসীকে বাঁচাতে স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা ৩টি জরুরি দাবি জানিয়েছেন:
১. নদী থেকে বালু উত্তোলনের স্পটগুলোতে অবিলম্বে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হোক।
২. অবৈধ বালু ব্যবসার সাথে জড়িত মূল হোতাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি শাস্তির আওতায় আনা হোক।
৩. উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধের সংলগ্ন নদী অঞ্চলকে স্থায়ীভাবে ‘বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হোক।
শ্যামনগরের সাধারণ মানুষের জানমাল ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের।















