সরাইলে পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য গ্রেফতার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মহিলা মেম্বার) জুরবানু বেগমকে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার অরুয়াইল বাজার এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মামলা নং CR (৩২৩১) ২৫ ১৮ জুন ২০২৫ তারিখে দাখিল করতঃ DR (১১১৪৬)(০)১, যা ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আদালত আমলে নেওয়া হয়। মামলায় আসামী করা হয় রামিম আহমেদ প্রকাশ মালু (৩২), পিতা- মৃত সহিদ মিয়া সাং- পশ্চিম কুট্টাপাড়া, থানা- সরাইল, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও জুরবানু (৪৫), স্বামী- মোঃ সিদ্দিক মিয়া স্থায়ী সাং- বড়ইছাড়া, বর্তমানে সাং- অরুয়াইল থানা- সরাইল, জেলা- ব্রাহ্মণবাড়িয়া গং আরো কয়েকজন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর শনিবার সকালে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, জুরবানু বেগম বিভিন্ন প্রলোভন ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে উঠতি বয়সী তরুণী বিশেষ করে স্কুল ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে উৎসাহিত করতেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া (ফেইক) ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে তরুণীদের ছবি দিয়ে যৌন উত্তেজক ও চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রলুব্ধ করার অভিযোগও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ মামলার এজাহারে উল্লিখিত অভিযোগ এবং তদন্তাধীন বিষয়।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অভিযোগ প্রচলিত থাকলেও তার প্রভাবের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাননি। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ এবং আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি থাকলে তদন্তে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে গ্রেপ্তারের ঘটনায় সরাইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সেটিও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।















