প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে স্ত্রী ও ভাইকে হত্যা: ১৮ বছর পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ইদ্রিস গ্রেফতার
জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে গিয়ে নিজের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও আপন ভাইকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ইদ্রিস শিকদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ ১৮ বছর পলাতক থাকার পর অবশেষে ঢাকার একটি এলাকা থেকে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়। চাঞ্চল্যকর এই জোড়া খুনের ঘটনাটি ঘটেছিল ২০০৮ সালে, ঝালকাঠির কাঠালিয়া এলাকায়।
মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে কাঠালিয়ার বাসিন্দা ইদ্রিস শিকদার ও তার ভাই কুদ্দুস শিকদারের সাথে প্রতিবেশী ফারুক জমাদার ও কবির জমাদারের জমি নিয়ে তীব্র বিরোধ চলছিল। প্রতিপক্ষকে চিরতরে ঘায়েল ও আইনি জালে জড়াতে ইদ্রিস ও কুদ্দুস এক লোমহর্ষক পরিকল্পনা করেন। তারা নিজেদের আপন ভাই মানিক শিকদার এবং ইদ্রিসের ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী শেফালী বেগমকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর উল্টো প্রতিপক্ষ ফারুক ও কবির জমাদারসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করে একটি নাটকীয় হত্যা মামলা দায়ের করেন খোদ ইদ্রিস শিকদার। তবে স্থানীয় পুলিশের অত্যন্ত নিখুঁত ও নিবিড় তদন্তে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। পুলিশ নিশ্চিত হয়, প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে এটি ছিল ইদ্রিস ও কুদ্দুসের সুপরিকল্পিত একটি জোড়া খুন।
পরবর্তীতে তদন্তের সত্যতার ভিত্তিতে পুলিশ বাদী হয়ে ইদ্রিস ও কুদ্দুসের বিরুদ্ধে পাল্টা হত্যা মামলা দায়ের করে এবং নির্দোষ প্রতিবেশীদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ঝালকাঠির বিজ্ঞ জজ আদালত অপরাধের সত্যতা পেয়ে ইদ্রিস শিকদার ও কুদ্দুস শিকদার উভয়কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। রায়ের পর কুদ্দুস শিকদার কারাগারে থাকলেও, ইদ্রিস মাত্র দুই বছর কারাভোগের পর জামিন নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘ ১৬ বছর ছদ্মবেশে পলাতক থাকার পর সম্প্রতি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত ইদ্রিস শিকদারকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। দীর্ঘ ১৮ বছর পর এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি নেমে এসেছে।













