দেবীগঞ্জে আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারির পরেও ফসল কেটে নেয়ার চেষ্টা, পুলিশের হস্তক্ষেপে বন্ধ
oppo_2
আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারির নির্দেশ থাকার পরেও জমির ফসল কেটে নেয়া শুরু করেন জুয়েল রানা নামের এক ব্যক্তি। পরে রামগঞ্জ বিলাসির বালাখুড়ি এলাকার রেজাউল করিম নামের ওই স্কুল শিক্ষক দেবীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দেয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে ফসল কেটে নেয়া বন্ধ করেন।
জমিতে গাছ রোপন, মাটি কাটা, মাটি ভরাট, স্থাপনা নির্মানসহ সকল ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য পঞ্চগড়ের সহকারি জজ আদালত উভয় পক্ষকে এ আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে জুয়েল রানা তার বাড়ির পাশে বিরোধীয় জমিতে প্রবেশ করে ধান কাটা শুরু করেন।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ সহকারি জজ আদালতের বিচারক বিশৃঙ্খলা এড়াতে জমিতে স্থিতিবস্থা জারি করেন। জমির শুনানী না হওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়।
এনিয়ে রেজাউল করিম দেবীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে জানা যায়, জুয়েল রানা ও তার স্ত্রী নুর বানু বেগম রেজাউল করিমের জমির পাশে অবস্থান করে। তাদের বাড়ির পাশে জমি থাকার কারনে জমির ফসল নষ্ট ও জমি দখল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ নিয়ে রেজাউল করিম আদালতে একটি মামলাও করেন। যার নম্বর ২০/২০২৫। সে মামলায় আদালত আমার পক্ষে রায় দেন। রায় বিপক্ষে যাওয়ার কারনে তারা জোরপূর্বক জমি দখল করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দিচ্ছে।
জানা যায়, ৩টি খতিয়ানে ক্রয়কৃত জমি রয়েছে ১০ একর ৩৮ একর। সে জমি নিয়ে অপর একটি পক্ষ ১৯৮৫ সালের ২৯২ ও ২৯৩ নম্বর দলিল মূলে মালিকানা দাবি করে আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করে। সে সময় আদালত আবাদি কৃষি জমি সমূহের রক্ষানাবেক্ষনের জন্য দেবীগঞ্জ থানাকে রিসিভার নিযোগ করেন। পরবর্তীতে গ্রামের লোকজন সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ১৯৯৩ সালের ২৩ মে একটি আপোষনামা দলিল করেন। যার নস্বর ২৭৯৫। সে আপোষনামা দলিলের মাধ্যমে আপোষ নিম্পত্তি করে দেয়া হয়। সেখানে ৬ জন ক্রেতা১০ দশমিক ৩৮ একর এর পরিবর্তে ৬ দশমিক ৪৪ একর জমি গ্রহন করেন। বর্তমানে এ জমির ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে ক্রয়কৃক ৬জন ক্রেতার মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।
স্কুল শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন,, ২৭৯৫ নম্বর রেজিষ্টি আপোষনামা দলিলের মূলে ৩৩৪ নম্বর খতিয়ানে ৩ দশমিক ৬০ একর, ৩৩৫ নম্বর খতিয়ানে দশমিক ২৫ একর জমি জমি, ৪৯ নম্বর খতিয়ানে ২ দশমিক ৫৯ একর জমিসহ মোট ৬ দশমিক ৪৪ একর জমি উক্ত ৬ জন কবলাক্রেতা এজমালিতে ভোগদখলে আছেন।
রেজাউল করিম আরও জানান, আমার ৩২ বছর থেকে জমির দখলে আছে। সে জমি তহসিলদার পুনরায় জুয়েল রানার নামে দখল দেখান। জমি উদ্ধারের জন্য দেবীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দেই। থানা থেকে দুই পক্ষকে বসার জন্য ডাকছিল কিন্তু জুয়েল রানা থানায় হাজির হয়নি।
জুয়েল রানা জানান, দলিল বাতিলের জন্য ও জমিতে স্থিতিবস্থা জারি করার জন্য আদালতে মামলা দায়ের করি। সে মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। আমার জমি, আমার দখলে রয়েছে। আমি জমিতে শ্রমিক দিয়ে রোপা চাষ করি। সে জমির ধান আমি কাটতে পারছিনা। তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে বাধা দিচ্ছেন।
জুয়েল রানা আরও বলেন, ৮৭৭ নম্বর দাগের ৪ একর ৩৮ শতক জমির মধ্যে ১ একর দাবি করতেছে। ৮৬৪ নম্বর দাগের ১ একর ৭০ শতক। তার মধ্যে ৬৬ শতক জমি জুয়েল রানার। কিন্তু রেজাউল করিম ৫০ শতক জমি নিজের বলে দাবি করছে। কিন্তু তার কোন বৈধ কাগজপত্র নাই। ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে আমাকে।
দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি সেলিম মালিক জানান, জমির বিশৃঙ্খলা এড়াতে আমরা উভয় পক্ষের সাথে কথা বলার জন্য ডেকেছি। বিষয়টি নিয়ে থানায় বসে তাদের সাথে কথা বলবো। জমির বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।















