স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের থাবায় রাণীগঞ্জের কৃষি সহায়তা: প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত, ক্ষোভ
সুনামগঞ্জের রাণীগঞ্জে কৃষি সহায়তা বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করে নিজের পরিবারের সদস্যদের দিয়ে পকেট কমিটি এবং সুবিধাভোগীদের তালিকা ভারী করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে সাধারণ কৃষক ও স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রস্তাবিত ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী সাদিকুর রহমান (পিতা: শফিকুর রহমান) নিজের প্রভাব খাটিয়ে সরকারি কৃষি সহায়তা এবং দলীয় পদ নিজের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করেছেন। সাদিকুর রহমানের আপন চাচা একলিমুর রহমান স্থানীয় আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় নেতা। রাজনৈতিক আদর্শ ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও পারিবারিক সুবিধার কারণে তাকেও নানাভাবে পুনর্বাসন ও সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায় সাদিকুর রহমানের আপন ভাই তারেক মিয়া, যিনি পূর্বে যুবলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। রাতারাতি খোলস বদলে তাকে এখন প্রস্তাবিত ২নং ওয়ার্ড যুবদলের সেক্রেটারি (সাধারণ সম্পাদক) বানানোর পাঁয়তারা চলছে।এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সাদিকুর রহমান তাঁর নিজের পরিবারের আরও বেশ কয়েকজন সদস্যকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও দলীয় কমিটিতে যুক্ত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বঞ্চিত প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত, স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে আসা সরকারি কৃষি সহায়তা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাওয়ার কথা থাকলেও, তারা সম্পূর্ণ সুবিধাবঞ্চিত হয়েছেন। সাদিকুর রহমানের তৈরি করা তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে তাঁর নিজের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন এবং রাজনৈতিক ডিগবাজি দেওয়া ব্যক্তিরা।
ক্ষুব্ধ এক কৃষক বলেন: আমরা বন্যায়-খরায় ফসল হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছি। অথচ যারা কোনোদিন জমিতে নামেনি, শুধু নেতার আত্মীয় হওয়ায় তারা সরকারি অনুদান পাচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের দাবি—বিগত সরকারের আমলের মতো এখনো যদি স্বজনপ্রীতি ও হাইব্রিড (সাবেক যুবলীগ-আওয়ামী লীগ) নেতাদের দিয়ে পকেট কমিটি ও সরকারি সুবিধা বণ্টন করা হয়, তবে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে।
সচেতন মহল অবিলম্বে এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং স্বজনপ্রীতির তালিকা বাতিল করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে কৃষি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।













