শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রশিক্ষণে ভেড়ার খামারি, বঞ্চিত পাট চাষি!

জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
প্রশিক্ষণে ভেড়ার খামারি, বঞ্চিত পাট চাষি!

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় পাট চাষিদের জন্য আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও সরকারি পাটবীজ বিতরণ কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের দাবি, সরকারের কৃষি উন্নয়ন কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত চাষিদের কাছে পৌঁছানোর পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পছন্দের ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। ফলে উপজেলার প্রকৃত পাট চাষিরা বঞ্চিত হচ্ছেন সরকারি সহায়তা থেকে।

উপজেলা পাট কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উন্নত জাতের পাট উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন করতে ৬০ জন চাষিকে নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কিন্তু প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের তালিকা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে পাট চাষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত অধিকাংশ কৃষকের নাম তালিকায় স্থান পায়নি। বরং সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠজন, আত্মীয়স্বজন ও এমন অনেক ব্যক্তিকে, যাদের পাট চাষের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই নেই।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কৃষক জানান, বছরের পর বছর পাট চাষ করেও তারা কখনো কোনো প্রশিক্ষণের সুযোগ পাননি। অথচ যারা পাট চাষ করেন না, তারাই নিয়মিতভাবে সরকারি বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করছেন।

একজন ক্ষুব্ধ কৃষক বলেন,

“আমরা মাঠে পাট চাষ করে দিন-রাত পরিশ্রম করি। কিন্তু প্রশিক্ষণের খবরই পাই না। পরে শুনি তালিকায় এমন লোকের নাম আছে, যারা কখনো পাটের জমিতে যায়নি। আমরা করি পাটের চাষ, আর ট্রেনিং করে ভেড়ার খামারিরা।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যেও এ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য অভিযোগ করে বলেন,

“উপজেলা পাট কর্মকর্তাকে হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া এলাকার কৃষকেরা চেনেনই না। তিনি নিজের পরিচিত ও আত্মীয়স্বজন ছাড়া প্রকৃত কোনো চাষি তৈরি করেননি। আমরা জনপ্রতিনিধি হয়েও প্রকৃত কৃষকদের নাম সুপারিশ করে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারি না। সবকিছুই নির্ধারণ করা হয় ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল উন্নত প্রযুক্তি ও আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে পাট চাষিদের দক্ষ করে তোলা। কিন্তু অনিয়মের কারণে প্রকৃত কৃষকরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এতে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুধু প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেই নয়, সরকারি পাটবীজ বিতরণেও অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের দাবি, পাট বপনের উপযুক্ত সময় পেরিয়ে যাওয়ার অনেক পরে বীজ বিতরণ করা হয়েছে। ফলে ওই বীজ ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে আঁশ উৎপাদনের সুযোগ আর ছিল না।

একাধিক কৃষক জানান, মৌসুম শেষ হওয়ার পর হাতে পাওয়া বীজ দিয়ে এখন আর পাট উৎপাদন সম্ভব নয়। অনেকেই বাধ্য হয়ে সেই বীজ শাক হিসেবে খাওয়ার জন্য বপন করছেন। আবার কেউ কেউ প্যাকেটবন্দী অবস্থায় ঘরে সংরক্ষণ করে রেখেছেন।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, সময়মতো বীজ সরবরাহ করা হলে উৎপাদন বাড়ত এবং সরকার ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হতো। কিন্তু প্রশাসনিক গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার কারণে কৃষকেরা প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তারাগঞ্জ উপজেলা পাট কর্মকর্তা নোমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাববর হোসেন। তিনি বলেন,

“পাট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল মনে করছেন, কৃষি খাতে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি সফল করতে হলে প্রকৃত উপকারভোগীদের নির্বাচন, প্রশিক্ষণ ও উপকরণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের উন্নয়ন সম্ভব হবে না। একই সঙ্গে তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে প্রকৃত কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

জামালপুরের বকশীগঞ্জে গভীর রাতে ২৩ বস্তা সার জব্দ

মোহাম্মদ আরমান, স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
জামালপুরের বকশীগঞ্জে গভীর রাতে ২৩ বস্তা সার জব্দ

জামালপুরের বকশীগঞ্জে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে ২৩ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের টুপকারচর গ্রামে অভিযান চালিয়ে এসব সার জব্দ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুরাদ হোসেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্যানগাড়িতে করে ২৩ বস্তা ডিএপি সার বকশীগঞ্জ থেকে ইসলামপুর উপজেলায় নেওয়া হচ্ছে—এমন খবর পেয়ে টুপকারচর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ভ্যানগাড়িতে থাকা ২৩ বস্তা সার জব্দ করেন ইউএনও।পরে জব্দ করা সারগুলো বকশীগঞ্জ থানায় পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়।উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুরাদ হোসেন বলেন, ‘সারগুলো কোথা থেকে এসেছে এবং কোথায় নেওয়া হচ্ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাগরপুর বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে জামায়াত নেতা ডা.  আব্দুল হামিদ

এম এ মান্নানঃ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১১ এএম
নাগরপুর বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে জামায়াত নেতা ডা.  আব্দুল হামিদ

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়ন বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক এমপি প্রার্থী জননেতা ডা. এ কে এম আব্দুল হামিদ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে তিনি নাগরপুর বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ইয়াসিন সুপার মার্কেট পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং অগ্নিকাণ্ডে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত অবহিত হন।

পরিদর্শনকালে ডা. এ কে এম আব্দুল হামিদ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। তিনি তাদের দুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতির কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য দোয়া করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাগরপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুস সালাম, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুর রশিদ মিয়া হারুন, সদর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. ইমরান হোসাইন প্রমূখ।

চৈতন্যের হাট আবৃরহাট আহমদ কবির সড়কের উদ্বোধন বিএনপি থাকলে দেশের উন্নয়ন হবে সমাবেশে বক্তারা

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
চৈতন্যের হাট আবৃরহাট আহমদ কবির সড়কের উদ্বোধন বিএনপি থাকলে দেশের উন্নয়ন হবে সমাবেশে বক্তারা

‎বহু প্রতিক্ষিত সড়ক চৈতন্যের হাট আবুরহাট সড়কের উদ্বোধন হয়েছে। আজ ১৫ই সেপ্টেম্বর বিকাল ৩ ঘটিকায় চট্টগ্রাম মিরসরাই উপজেলার ৮নং দূর্গাপুর ইউনিয়নের চৈতন্যের হাটে এই উদ্বোধনী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎ ৮ নং দূর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক মো: জসিম উদ্দিন, এবং ৮ নং দূর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবং বর্তমান উপজেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য আজিজুল হক মেম্বারের যৌথ সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই আসনের মাননীয় এমপি ও সদস্য, ধর্ম বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব, নুরুল আমিন এমপি মহোদয়।

‎এতে আরো উপস্থিত ছিলেন : উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ওলিউল কবির ইকবাল, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আজিজুল হক চৌধুরী, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক সালাউদ্দিন চেয়ারম্যান,

‎বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক জনাব আফছার চেয়ারম্যান, বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক জনাব জমির উদ্দিন সহ জেলা উপজেলা বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

‎এ সময় সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারী বিএনপিকে জয়যুক্ত করার পর দেশে উন্নয়নের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে, মানুষ এখন শান্তিতে ঘুমাইতে পারতেছে। মিরসরাইতে কোন সড়ক সংস্কার বিহীন থাকবে না, উপজেলার প্রত্যেকটি সড়ক সংস্কারের আওতায় আসবে।

‎এ সময় বক্তব্য এমপি বলেন, আমরা মিরসরাইকে একটি রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। গত ৫ আগষ্টে ভারতে লুকিয়ে থেকে দেশকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা করছে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগ তারা বলেছে ডিসেম্বরে আসবে এই ডিসেম্বর না কোন ডিসেম্বরে আসতে পারবেনা। আসছে আগামী স্থানীয় নির্বাচনে দল যাকে প্রার্থী দিবে তাকে জয়যুক্ত করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান এমপি। সড়কের কাজে সকলকে আন্তরিকতা সহিত সহযোগীতা করার আহবান জানান, এমপি নুরুল আমিন এমপি মহোদয়।

‎এতে আরো বক্তব্য রাখেন ছাত্রদলের মিরসরাই বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক জনাব, ফখরুল ইসলাম ভূইয়া, জেলা ছাত্রদলের সম্মানিত সদস্য মো: জিসান, ৮ নং দূর্গাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের ক্রীড়া পরিচালনা কমিটি সভাপতি তানভীরুল আজিজ তাসিফ সাধারণ সম্পাদক, মো: জিসান সহ জেলা উপজেলার বিএনপি, ছাত্রদল এবং যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা বক্তব্য রাখেন।

‎সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন, মিরসরাই উপজেলা আহবায়ক, আব্দুল আওয়াল।