মহাখালীতে হেলমেটধারী সন্ত্রাসীর গুলিবর্ষণ: মাসুম অধরা, উদ্ধার হয়নি অবৈধ অস্ত্র
ছবি- সংগৃহীত
রাজধানীর মহাখালীতে বৈশাখী টেলিভিশনের পাশের গলিতে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলিবর্ষণের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত আব্দুর রহমান মাসুম ওরফে ‘মোল্লা মাসুম’ রহস্যজনকভাবে এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। নেপথ্যে রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ছত্রছায়া। ঘটনার কয়েকমাস পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার হয়নি ব্যবহৃত সেই অবৈধ অস্ত্র। সিসিটিভি ফুটেজে অপরাধী শনাক্ত হওয়ার পরও পুলিশের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা না থাকায় জনমনে ক্ষোভ ও রহস্যের দানা বাঁধছে।
গত ১৫ অক্টোবর ২০২৫, দিবাগত মধ্যরাতে মহাখালী ওয়্যারলেস গেট এলাকায় বৈশাখী টেলিভিশনের পাশের গলিতে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি হেলমেট পরিহিত অবস্থায় তিন-চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বীরদর্পে চলে যাচ্ছে। ঘটনার পরদিন সেনাবাহিনী বিটিসিএল কলোনিতে মাসুমের মাদক আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তা গুঁড়িয়ে দিলেও রহস্যজনকভাবে মাসুম আগেভাগেই খবর পেয়ে পালিয়ে যায়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনার মূল কারণ ছিল বৈশাখী টেলিভিশনের নিলামে বিক্রি হওয়া পুরাতন মালামাল নিয়ে চাঁদাবাজি। দরপত্রের মাধ্যমে মালামাল কেনা প্রতিষ্ঠানের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করছিল মাসুম ও তার সহযোগীরা। ঘটনার রাতে মালামাল ট্রাকে লোড করার সময় বাধা দিতেই এই মহড়া ও গুলিবর্ষণ চালানো হয়।
মোল্লা মাসুম মহাখালী, বাড্ডা, গুলশান ও বনানী এলাকার এক চিহ্নিত মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজ। তার অপরাধের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। সে নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করে বেড়ায়।
২০১৬ সালের ১৮ এপ্রিল: র্যাব-১ এর হাতে ৪টি পিস্তল, ৬ রাউন্ড গুলি ও ২টি ম্যাগাজিনসহ গ্রেপ্তার হয়েছিল মাসুম।
বর্তমান অবস্থান: কুমিল্লায় আদি বাড়ি হলেও সে মহাখালী বিটিসিএল কলোনিতে বড় হয়েছে। বর্তমানে সে টঙ্গী এলাকায় অবস্থান করে অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে বলে জানা গেছে। প্রায়ই মধ্যরাতে তাঁকে বনানীর গোডাউন বস্তি ও বেলতলা বস্তিতে দেখা যায়।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক), “আমরা বৈধভাবে টেন্ডারে মালামাল কিনেছি। কিন্তু মাসুম ও তার ক্যাডাররা এসে কয়েক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তারা ট্রাকে মালামাল তোলার সময় সরাসরি গুলি চালায়। ওই সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার না হওয়ায় আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
বনানী থানার নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন , “ঘটনার সময় আমি এই থানার দায়িত্বে ছিলাম না। বিষয়টি আমলে নিলাম। আমি যোগদানের পর মাদক নির্মূল, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এখানে কোনো অবহেলার সুযোগ নেই।”
এলাকাবাসী ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক: নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলোনির এক বাসিন্দা বলেন, “মাসুমের মতো চিহ্নিত সন্ত্রাসী যদি দিনের পর দিন প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়ায় এবং প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে পালিয়ে যায়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? পুলিশের উচিত ছিল দ্রুততম সময়ে তাকে গ্রেপ্তার করা।”
প্রকাশ্য দিবালোকে রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গুলিবর্ষণের ঘটনায় মাসুমের মতো চিহ্নিত সন্ত্রাসীর অধরা থাকা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য অশনিসংকেত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি কোনো অদৃশ্য চাপে রয়েছে, নাকি তদন্তে গাফিলতি হচ্ছে—এমন প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। অবিলম্বে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং এই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।















