সোমবার, ৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

গুরুদাসপুরে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

সজিবুর রহমান নাটোর প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৪১ পিএম
গুরুদাসপুরে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

নাটোরের গুরুদাসপুরে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের উদ্যোগে জাতীয় ও সমবায় পতাকা উত্তোলন, র‍্যালি এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল সাড়ে নয়টায় জাতীয় ও সমবায় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালি শেষে সকাল পৌনে দশটায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজের সভাপতিত্বে সভায় সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সুরজিত চ্যাটার্জী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান, চলনবিল প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এম আলী আক্কাছ এবং সমবায় সহকারী পরিদর্শক মো. সুমন রেজা। এ ছাড়া বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় সমবায়ের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে সমবায় আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বক্তারা সমবায় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন জাতের চারাগাছ উপহার দেওয়া হয়।

কসবায় বিএনপির দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৫: ককটেল বিস্ফোরণ

কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:২৯ পিএম
কসবায় বিএনপির দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৫: ককটেল বিস্ফোরণ

 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে তীব্র ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার কদমতলী ও পুরাতন বাজার এলাকায় দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ও ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে, যা পুরো শহরে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলে জেলা বিএনপি নেতা কবির আহমেদ ভূঁইয়ার সমর্থনে কসবা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হক স্বপনের নেতৃত্বে আড়াইবাড়ি দরবার শরীফের সামনে থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিল শেষে নেতাকর্মীরা কদমতলী মোড়ে জড়ো হয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় অংশ নেন।

ঠিক সেই মুহূর্তে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত বিএনপির অপর একটি পক্ষ কদমতলী এলাকায় প্রবেশ করলে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই তা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং পরবর্তীতে রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলে এই সংঘর্ষ। আতঙ্কে মুহূর্তের মধ্যে কসবা বাজারের সব দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মো. রাশেদ জানান, বিএনপির দুটি পক্ষ নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল। তবে খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

এ বিষয়ে কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছামিউল ইসলাম জানান, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে উভয় পক্ষই শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের কথা জানিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বহাল রাখা হয়েছে।

উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহ্বায়ক থেকে জনপ্রতিনিধি হওয়ার প্রত্যাশা

 খায়রুল আলম নয়ন,সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৯ পিএম
উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহ্বায়ক থেকে জনপ্রতিনিধি হওয়ার প্রত্যাশা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রভাষক আবুল কালাম আজাদ।

তিনি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার একজন সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধি প্রার্থী হিসেবে নিজেকে এগিয়ে নিতে আগ্রহী। উপজেলা পর্যায়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করার প্রত্যাশা নিয়ে তিনি জনপ্রতিনিধি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

প্রভাষক আবুল কালাম আজাদ মনে করেন, জনপ্রতিনিধিত্বের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ, এলাকার উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং জনগণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে একটি জনবান্ধব নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা তাঁর।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

প্রভাষক আবুল কালাম আজাদ সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মানুষের দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন।

রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ

জাকারিয়া আল ফয়সাল রাজশাহী ব্যুরো প্রধান প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৭ পিএম
রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ

রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়েও মেলেনি কোনো প্রতিকার। উল্টো কাঙ্ক্ষিত তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতোয়ার রহমান। নিজের অনিয়ম, দুর্নীতি ও কোটি কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য ধামাচাপা দিতেই তিনি কৌশলগতভাবে তথ্য এড়ানোর পথ বেছে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে বহাল থেকে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার, সিন্ডিকেট গঠন এবং অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার অভিযোগও পাওয়া গেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর বিধান অনুযায়ী মো. রেজাউল করিম নামের এক ব্যক্তি রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ীসহ বিভিন্ন উপজেলায় ‘লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (LDDP)’-এর আওতায় বাস্তবায়িত কার্যক্রম, বরাদ্দকৃত অর্থ, খামারিদের দেওয়া উপকরণ ও উপকারভোগীদের তালিকা চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনটি ডাকযোগের পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ইমেইলেও পাঠানো হয়।

তবে গত ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতোয়ার রহমান স্বাক্ষরিত ‘ফরম খ’ (তথ্য সরবরাহে অপারগতার নোটিশ)-এর মাধ্যমে আবেদনটি বাতিল করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, কাঙ্ক্ষিত তথ্যসমূহ জেলা দপ্তরে সংরক্ষিত নেই। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্পটি কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকার প্রকল্প পরিচালক (PD) এবং সরাসরি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। তাই কাঙ্ক্ষিত তথ্যের জন্য ঢাকা প্রকল্প কার্যালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট উপজেলা কার্যালয়ে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়।

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকা জেলা কর্মকর্তার দপ্তরে এসব তথ্যের অনুলিপি বা তদারকি রেকর্ড থাকা আবশ্যক। তথ্য অধিকার আইনের অজুহাতে তথ্য না দেওয়ার এই পদক্ষেপকে স্পষ্ট আইন লঙ্ঘন এবং জালিয়াতি ঢাকার অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন আইনজ্ঞ ও স্থানীয় খামারিরা।

প্রণোদনা হরিলুট ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে, এলডিডিপি প্রকল্পের আওতায় খামারিদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রদর্শনীর সরঞ্জাম, ওষুধ, দানাদার খাদ্য ও খামার সামগ্রী সরবরাহে বড় ধরনের জালিয়াতি করেছেন ডা. আতোয়ার রহমান। কাগজপত্রে শতভাগ বিতরণ দেখিয়ে অর্থ তুলে নেওয়া হলেও বাস্তবে বহু প্রকৃত খামারি তা পাননি। ভুয়া তালিকা তৈরি করে প্রকল্পের বিশাল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এছাড়া রাজশাহীতে কমার্শিয়াল ডেইরি ও পোল্ট্রি খামার বা ফিড লাইসেন্স দেওয়া ও নবায়ন, ভেটেরিনারি সেবা সংক্রান্ত অনুমোদন এবং নিম্নমানের টিকা ও কৃমির ওষুধ সরবরাহে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মাঠপর্যায়ের ভেটেরিনারি সার্জন ও ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্টদের পোস্টিং ও বদলি বাণিজ্য এবং প্রশিক্ষণ ও কেনাকাটার ভুয়া বিল বানিয়ে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

তথ্য অধিকার লঙ্ঘন ও অনিয়মের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে ডা. মো. আতোয়ার রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেননি। উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, “আপনি অফিসে আসেন। আগে আমার পদমর্যাদাটা বোঝেন, আমি কে!” একই সঙ্গে তিনি কোনো তথ্য না দিয়ে উল্টো সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদান করেন এবং দাবি করেন এসব তথ্য জেলা দপ্তরে থাকে না।

এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. আনন্দ কুমার অধিকারী জানান, “এলডিডিপি প্রকল্পটি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এটি ঢাকা থেকে সরাসরি পরিচালিত হয়ে উপজেলা পর্যায়ে বাস্তবায়ন হতো এবং জেলা কর্মকর্তা কেবল বিষয়গুলো মনিটরিং করতেন। ফলে তাঁর কাছে বিস্তারিত তথ্য না-ও থাকতে পারে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অনিয়ম বা দুর্নীতির বিষয়ে আমার জানা নেই।”

তথ্য অধিকার আইন লঙ্ঘন, খামারিদের প্রণোদনা আত্মসাৎ এবং অবাধ দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় খামারি ও নাগরিক সমাজ। ডা. আতোয়ার রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।