মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী
সারাদেশ

মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী
সারাদেশ
কুরআন শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে কাজ করবে সরকার : রাষ্ট্রপতি
রাজনীতি
বদলি-সংযুক্তির পর যোগদান করা শিক্ষকদের তথ্য আইপিইএমআইএসে হালনাগাদের নির্দেশ
সারাদেশ
জেলেদের জীবিকার সংকট ঘুচাতে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে সরকার: আবু সুফিয়ান এমপি
জেলার সংবাদ
রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়েও মেলেনি কোনো প্রতিকার। উল্টো কাঙ্ক্ষিত তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতোয়ার রহমান। নিজের অনিয়ম, দুর্নীতি ও কোটি কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য ধামাচাপা দিতেই তিনি কৌশলগতভাবে তথ্য এড়ানোর পথ বেছে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে বহাল থেকে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার, সিন্ডিকেট গঠন এবং অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার অভিযোগও পাওয়া গেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর বিধান অনুযায়ী মো. রেজাউল করিম নামের এক ব্যক্তি রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ীসহ বিভিন্ন উপজেলায় ‘লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (LDDP)’-এর আওতায় বাস্তবায়িত কার্যক্রম, বরাদ্দকৃত অর্থ, খামারিদের দেওয়া উপকরণ ও উপকারভোগীদের তালিকা চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনটি ডাকযোগের পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ইমেইলেও পাঠানো হয়।
তবে গত ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতোয়ার রহমান স্বাক্ষরিত ‘ফরম খ’ (তথ্য সরবরাহে অপারগতার নোটিশ)-এর মাধ্যমে আবেদনটি বাতিল করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, কাঙ্ক্ষিত তথ্যসমূহ জেলা দপ্তরে সংরক্ষিত নেই। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্পটি কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকার প্রকল্প পরিচালক (PD) এবং সরাসরি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। তাই কাঙ্ক্ষিত তথ্যের জন্য ঢাকা প্রকল্প কার্যালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট উপজেলা কার্যালয়ে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকা জেলা কর্মকর্তার দপ্তরে এসব তথ্যের অনুলিপি বা তদারকি রেকর্ড থাকা আবশ্যক। তথ্য অধিকার আইনের অজুহাতে তথ্য না দেওয়ার এই পদক্ষেপকে স্পষ্ট আইন লঙ্ঘন এবং জালিয়াতি ঢাকার অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন আইনজ্ঞ ও স্থানীয় খামারিরা।
প্রণোদনা হরিলুট ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ
অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে, এলডিডিপি প্রকল্পের আওতায় খামারিদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রদর্শনীর সরঞ্জাম, ওষুধ, দানাদার খাদ্য ও খামার সামগ্রী সরবরাহে বড় ধরনের জালিয়াতি করেছেন ডা. আতোয়ার রহমান। কাগজপত্রে শতভাগ বিতরণ দেখিয়ে অর্থ তুলে নেওয়া হলেও বাস্তবে বহু প্রকৃত খামারি তা পাননি। ভুয়া তালিকা তৈরি করে প্রকল্পের বিশাল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এছাড়া রাজশাহীতে কমার্শিয়াল ডেইরি ও পোল্ট্রি খামার বা ফিড লাইসেন্স দেওয়া ও নবায়ন, ভেটেরিনারি সেবা সংক্রান্ত অনুমোদন এবং নিম্নমানের টিকা ও কৃমির ওষুধ সরবরাহে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মাঠপর্যায়ের ভেটেরিনারি সার্জন ও ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্টদের পোস্টিং ও বদলি বাণিজ্য এবং প্রশিক্ষণ ও কেনাকাটার ভুয়া বিল বানিয়ে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।
তথ্য অধিকার লঙ্ঘন ও অনিয়মের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে ডা. মো. আতোয়ার রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেননি। উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, “আপনি অফিসে আসেন। আগে আমার পদমর্যাদাটা বোঝেন, আমি কে!” একই সঙ্গে তিনি কোনো তথ্য না দিয়ে উল্টো সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদান করেন এবং দাবি করেন এসব তথ্য জেলা দপ্তরে থাকে না।
এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. আনন্দ কুমার অধিকারী জানান, “এলডিডিপি প্রকল্পটি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এটি ঢাকা থেকে সরাসরি পরিচালিত হয়ে উপজেলা পর্যায়ে বাস্তবায়ন হতো এবং জেলা কর্মকর্তা কেবল বিষয়গুলো মনিটরিং করতেন। ফলে তাঁর কাছে বিস্তারিত তথ্য না-ও থাকতে পারে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অনিয়ম বা দুর্নীতির বিষয়ে আমার জানা নেই।”
তথ্য অধিকার আইন লঙ্ঘন, খামারিদের প্রণোদনা আত্মসাৎ এবং অবাধ দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় খামারি ও নাগরিক সমাজ। ডা. আতোয়ার রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।