টানা বৃষ্টিতে কেশবপুরে সবজির বাজারে আগুন, কাঁচামরিচে সবচেয়ে বেশি ঝাঁজ
টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে যশোরের কেশবপুর উপজেলার কাঁচাবাজারের পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রামের সাপ্তাহিক হাটেও সবজির দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। জলাবদ্ধতা ও ক্ষেতের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় উৎপাদন কমে গেছে। একই সঙ্গে অন্য জেলা থেকে সরবরাহও ব্যাহত হওয়ায় বাজারে সবজির সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দামে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের হাটে কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উপজেলা সদর বাজারে গোল কাঁচামরিচ ২৮০ টাকা এবং লম্বা কাঁচামরিচ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শনিবার (১ আগস্ট) উপজেলার প্রধান কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, টানা বৃষ্টির কারণে কৃষকরা পর্যাপ্ত সবজি তুলতে পারছেন না। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে এবং দাম বেড়েছে।
বর্তমানে টমেটো প্রতি কেজি ১০০ টাকা, শসা ১৪০ টাকা, বেগুন ৯০–১০০ টাকা, পটোল ৬০–৬৫ টাকা, ঢেঁড়স ২০–৩০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা, ঝিঙা ৫০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, কাঁচকলা (হালি) ৩০–৪০ টাকা, পেঁপে ৩০–৪০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা এবং ডাঁটা শাক ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মসলাজাতীয় পণ্যের বাজারেও দাম বেড়েছে। দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪৫–৬০ টাকা, রসুন ৬০–১৫০ টাকা এবং শুকনা মরিচ ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার হাসানপুর কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, “বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে পাইকারি বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই খুচরা বাজারেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”
আরেক ব্যবসায়ী বাবুল আক্তার বলেন, “পাইকারি বাজারেই কাঁচামরিচের দাম অনেক বেশি। আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে সরবরাহ বাড়লে দামও কমে আসবে বলে আশা করছি।”
এদিকে মাছ ও মাংসের বাজারেও কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা, ছোট আকারের ইলিশ ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ টাকা, সোনালি ৩০০ টাকা, লেয়ার ৩৫০ টাকা, গরুর মাংস ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার করতে আসা মাসুদ রেজা বলেন, “বৃষ্টিকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে অনেক ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। সাধারণ মানুষের জন্য বাজার করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।”
তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহ সংকটের কারণেই দাম বেড়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “চলতি মৌসুমে কেশবপুর উপজেলায় প্রায় ৭০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে প্রায় ১২ হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ২০ হেক্টর মরিচের আবাদি জমির মধ্যে প্রায় ২ হেক্টরের মরিচ নষ্ট হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় সাময়িকভাবে সবজির দাম বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে এবং নতুন করে ক্ষেত থেকে সবজি উঠতে শুরু করলে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে আগামী কয়েক দিন সবজির বাজারে মূল্যবৃদ্ধির এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।







