শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আপনারা ভোট দিবেন: ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস

মোঃ জামির হোসেন সরকার, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫০ এএম
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আপনারা ভোট দিবেন: ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস

জুলাই যোদ্ধা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আপনারা আসন্ন নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে যাবেন, ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মনে রাখবেন আপনি শুধু একটি ভোট দিচ্ছেন না, আপনি বহন করছেন ৭১ এর উত্তরাধিকার এবং জুলাইয়ের সাহস।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা টাউনহল মাঠে ‘তারুণ্যের ভাবনায় আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি মুক্ত আলোচনায় মূখ্য আলোচক হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র সবচেয়ে ভালো কাজ করে তখনই,
যখন ভোটাররা শুধু অনুভব নয় তা নিয়ে ভাবে। মনে রাখবেন নির্বাচন শুধু পরবর্তী পাঁচ বছরের বিষয় নয়। এটি পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। সুতরাং জেনে বুঝে আপনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোট আপনার অধিকার। ভোট দেয়ার আগে ভাবুন ২০৪১ সালের বাংলাদেশ এবং তার পরের বাংলাদেশকে। ভাবুন এমন শিক্ষা ব্যবস্থা, যা শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য প্রস্তুত করবে। এমন কর্মসংস্থান, যা তরুণদের দেশে থেকেই ভবিষ্যৎ গড়তে উৎসাহিত করবে। যা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য জলবায়ু সহনশীলতা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়ন করবে।

ড. সায়মা বলেন, বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের পরিচয়ের কথা বলতে গেলে দুটি বিষয় সবার ঊর্ধ্বে উঠে আসে।
একটি হলো ১৯৭১, যখন সাধারণ মানুষ, কৃষক, ছাত্র, শ্রমিক সবাই একসঙ্গে দাঁড়িয়ে বলেছিল আমরা ভয়ের নয়, স্বাধীনতার পথ বেছে নিবো।
আরেকটি হলো চব্বিশেের জুলাই গণঅভ্যুত্থান। যখন এই দেশের তরুণরা আবারও ন্যায়বিচার, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য নিজেদের কণ্ঠ তুলে ধরেছিল। জুলাই আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে ১৯৭১-এর প্রতিরোধ, সাহস ও দায়িত্ববোধের চেতনা শেষ হয়ে যায়নি, তা আজও তরুণদের মধ্যেই জীবিত।

তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করুন, যারা প্রমাণ করবে, ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট না করেই রাজনীতি করা যায়। আপনারা কোনো ছোট গোষ্ঠী নন, আপনার্ কোনো ছোট গোষ্ঠী নন, আপনারাই এই দেশের জনসংখ্যার সবচেয়ে বড় অংশ।

তাই নীতি দেখে ভোট দিন, দৃষ্টিভঙ্গি দেখে ভোট দিন, দক্ষতা দেখে ভোট দিন। ইশতেহার পড়ুন, উন্নয়ন পরিকল্পনা বুঝুন, অগ্রাধিকার বিশ্লেষণ করুন। কারিশমা জনসমাগম ঘটাতে পারে কিন্তু দক্ষতাই রাষ্ট্র গড়ে তুলে। আপনার ভোট কোনো রাজনীতিবিদের প্রতি অনুগ্রহ নয়। এটি আপনার ভবিষ্যৎ, আপনার বাবা-মা এবং পরবর্তী প্রজন্মের প্রতি একটি অঙ্গীকার।

সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ নামক একটি সংগঠনের আয়োজনে মুক্ত আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা ৬ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
প্রধান আলোচনা পেশ করেন জুলাই যোদ্ধা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। সহ আলোচক হিসেবে উপস্থিত জুলাই যোদ্ধা, ডাকসু ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান, রাকসুর এজিএস প্রার্থী জাহিন বিশ্বাস এশা, জুলাই শহীদ সাদমানের মা কাজী শারমিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
ট্রেজারার এম প্রফেসর জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান না হলে আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারতাম না। জুলাই এসেছিল ১৯৭১ এর ই পরম্পরায়। ৭১ আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, ২৪ সেই স্বাধীনতা রক্ষা করেছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় একটি পক্ষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে মুক্তিযুদ্ধের রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পায়তারা করেছে। ১৯৭১ এ দেশের তরুণরা যেভাবে পাকিস্তানের হাত থেকে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিল ঠিক সেভাবেই ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘ পনের বছরের স্বৈরাচারকে হটিয়ে আমাদেরকে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছে। আমরা যেভাবে ২৪ এর জুলাই কে স্মরণ করব ঠিক তেমনিভাবে ১৯৭১ কে সম্মানের সাথে স্মরণ করব। কখনোই জুলাইকে দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধকে রিপ্লেস করতে দিবো না।

তিনি আরও বলেন, যারা মহান মুক্তিযোদ্ধাকে ধারণ করে না তারাই জুলাইকে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে রিপ্লেস করতে চায়। এদেশের তরুণরা কি করতে পারে তা দীর্ঘ পথ চলায় আমরা দেখেছি। ১৯৫২ ভাষা আন্দোলন, উত্তরের গণঅভ্যুত্থান, ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর স্বৈরাচার বিরেধী আন্দোলন, ২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান এদেশের তরুণরাই ঘটিয়েছে। এদেশের তরুণ সমাজ সংকটময় মুহূর্তে বারবার জেগে ওঠে। তরুণরাই আগামীর আধুনিক ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে।

আবিদুল ইসলাম খান বলেন, যে জুলাইয়ের শক্তি নিয়ে আমরা মাঠে নেমেছিলাম, আজ দেড় বছর অতিবাহিত হয়েছে, সেই দে বছরে যারা জুলাই অভ্যুত্থানে সম্মুখ সারির যারা যুদ্ধা ছিলেন, যাদের হাতে তরুণ প্রজন্মের নতুন ভবিষ্যৎ দেখতো বাংলাদেশ, প্রত্যকটা ব্যক্তি তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। এই জুলাইকে আমরা যথা যথ উপস্থপন করতে পারিনি। আমরা কেমন বাংলাদেশ ছেয়েছিলাম ? আমরা ছেয়েছিলাম আরকোন হানাহানি চলবে না। আরকোন চাঁদাবাজী, টেন্ডাবাজী ও দখলদারিত্ব চলবে না। এমন একটা বাংলাদেশ ছেয়েছিলাম। যেখানে নিরাপদে বাসা থেকে বের হতে পারবো এবং বাসায় আমি ফিরতে যেতে পারবো। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমরা যে রাজনৈতিক অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। সেই রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি আমাদের মাঝে আবার চলে এসেছে আল্প সময়ের মধ্যে।

মুক্ত আলোচনায় জুলাই যোদ্ধাসহ কুমিল্লার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছাত্রীরা।

সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান

ধামরাই মডেল প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৬ পিএম
ধামরাই মডেল প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন

সভাপতি সিরাজুল ইসলাম-সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান জাহিদ

ঢাকার ধামরাই মডেল প্রেসক্লাবের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে চ্যানেল এস টিভির ধামরাই প্রতিনিধি মোঃ সিরাজুল ইসলামকে সভাপতি এবং দৈনিক দেশের কণ্ঠ পত্রিকার ধামরাই প্রতিনিধি মোঃ জাহিদুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ধামরাই মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে মৌখিক নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

নবগঠিত কমিটির অন্যান্য পদে রয়েছেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান(মিজান), সহ-সভাপতি মোঃ মোজাম্মেল হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মশিউজ্জামান মুবীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মাসুদ রানা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মনিরুজ্জামান, অর্থ সম্পাদক মোঃ বাবু শেখ, প্রচার সম্পাদক জাহিদুর রহমান , সহ-দপ্তর সম্পাদক মোছাঃ তানজিলা আক্তার, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রূপা আক্তার ইতি, সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক কাজল আক্তার সান্তনা এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোঃ সুমন উদ্দীন হাওলাদার।

এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন মোঃ হাবিবুর রহমান (হাবিব), মোঃ আলামিন, মোঃ জাকির, মোঃ সুমন মিয়া ও মোঃ রাসেল হোসাইন।

সাধারণ সভায় বক্তারা বলেন, ধামরাই মডেল প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের পেশাগত ঐক্য, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় কাজ করবে। একই সঙ্গে ধামরাইয়ের বিভিন্ন সমস্যা, অনিয়ম, দুর্ভোগ ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সৌহার্দ্য ও ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকতার নীতি ও দায়িত্বশীলতা বজায় রেখে ধামরাইয়ের মানুষের কথা তুলে ধরাই হবে প্রেসক্লাবের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এজন্য স্থানীয় সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

গুরুদাসপুরে সাংবাদিকদের সাথে নবাগত  ওসির মতবিনিময়

সজিবুর রহমান নাটোর প্রতিনিধি: প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৮ পিএম
গুরুদাসপুরে সাংবাদিকদের সাথে নবাগত  ওসির মতবিনিময়
নাটোরের গুরুদাসপুরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আঃ হান্নান। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলাম এবং থানার ওসি (তদন্ত) রিয়াজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময়কালে সাংবাদিকরা গুরুদাসপুরে মাদক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, চুরি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন।
গুরুদাসপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করে নবাগত ওসি মোঃ আঃ হান্নান বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং অপরাধ নির্মূল করা পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
তিনি বলেন, মাদক নির্মূল ও অপরাধ দমনে সাংবাদিকরা সবসময় পুলিশের পাশে থেকে সহযোগিতা করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা করেন তিনি। মানবিক সমাজ গঠন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অপরাধ নির্মূলে পুলিশ ও সাংবাদিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ, ওসি (তদন্ত) রিয়াজুল ইসলাম, সাংবাদিক আলী আককাছ, সাজেদুর রহমান, রাশিদুল ইসলাম, আব্দুস সালাম, জুয়েল হাসান টিপু,সজিবুর রহমান সহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে ওসি মোঃ আঃ হান্নান বলেন, তিনি গত ১৫ আগস্ট গুরুদাসপুর থানায় যোগদান করেছেন। যোগদানের পর এ পর্যন্ত ১৩ জন মাদকসেবী ও ৫ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। ডোপ টেস্টের মাধ্যমে মাদকসেবী শনাক্ত করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাও দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো পুলিশ সদস্যের মাদক কারবারিদের সঙ্গে সখ্যতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া ইভটিজিং প্রতিরোধে বালিকাসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সামনে দুই ঘণ্টা করে বিশেষ নজরদারি, মহাসড়কে রাতের বিশেষ টহল জোরদার, থানার সামনে ডিউটি অফিসারের নম্বর প্রদর্শন এবং নিয়মিত ওপেন হাউজ ডেসহ বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আগামীতে প্রতি মাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ ধরনের মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হবে বলেও জানান নবাগত ওসি মোঃ আঃ হান্নান।

গড়াইয়ের বুকে নৌকাবাইচ, বৈঠার ছন্দে মাতল কুষ্টিয়া

তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:  প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ পিএম
গড়াইয়ের বুকে নৌকাবাইচ, বৈঠার ছন্দে মাতল কুষ্টিয়া

Screenshot

কুষ্টিয়ার গড়াই নদীতে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াই ঘাট বড় বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই গড়াই নদীর দুই তীরে মানুষের ঢল নামে। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে হাজারো দর্শক উপভোগ করেন নৌকার দৌড়। বৈঠার ছন্দ আর প্রতিযোগী নৌকার দ্রুতগতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় উৎসবের মিলনমেলায়।

আয়োজকরা জানান, এবারের প্রতিযোগিতায় কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি সিরাজগঞ্জ, পাবনা, সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিযোগী দল অংশ নিয়েছে। এখন পর্যন্ত সাতটি নৌকা প্রতিযোগিতায় নিবন্ধন করেছে। দূরদূরান্ত থেকে প্রতিযোগী ও দর্শনার্থীরা আসায় আয়োজনটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।

প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের জন্য রাখা হয়েছে আকর্ষণীয় পুরস্কার। প্রথম স্থান অর্জনকারী দল পাবে Yamaha FZ Version-2 মোটরসাইকেল। দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে রয়েছে Pulsar 150, তৃতীয় পুরস্কার Hero 100 এবং চতুর্থ পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে Walton ফ্রিজ। এছাড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক নৌকার জন্য রয়েছে ৩২ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন।

আয়োজক কমিটির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নৌকার দৈর্ঘ্য কমপক্ষে ৫০ হাত হতে হবে। সিঙ্গেল বডি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে না। প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত বিষয়ে কমিটির সর্বশেষ সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে জানানো হয়েছে।

নৌকাবাইচের উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। উদ্বোধক ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আনছার আলী প্রামাণিক ও সাধারণ সম্পাদক মো. লুফকর রহমান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অতিথিদের বক্তব্যের পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। এরপর একে একে প্রতিযোগী নৌকাগুলো গড়াইয়ের বুকে ছুটে চলে। নৌকার গতি ও বৈঠার নিখুঁত ছন্দ দেখতে নদীর দুই পাড়ে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গ্রামবাংলার প্রাচীন নৌকাবাইচের ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এ সংস্কৃতিকে তুলে ধরতেই এ আয়োজন। প্রতিযোগিতাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে।

নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতা পরিচালনা করছেন মুহায়াদ রেজা ফাহিম, পরিচালক, দি চেঞ্জার অব কমার্স।