বনানীতে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ, মূল কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযানের দাবি
রাজধানীর বনানী থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবীর বিচরণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা, হোম ডেলিভারির মাধ্যমে সরবরাহ এবং সংঘবদ্ধ চক্রের তৎপরতার কারণে তরুণ সমাজ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তারা দ্রুত মূল মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বনানী থানার আওতাধীন কড়াইল বস্তি ও সাততলা বস্তিসহ কয়েকটি এলাকায় ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সহজেই পাওয়া যায়। এছাড়া আশপাশের বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকেও গোপনে মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে হোম ডেলিভারিতে মাদক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদকের সহজলভ্যতার কারণে বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে ইয়াবার আসক্তি বাড়ছে। এতে পারিবারিক ও সামাজিক অস্থিরতার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটছে বলে তাদের আশঙ্কা।
এলাকাবাসীর কয়েকজন অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্য ও কথিত সোর্সদের সঙ্গে মাদক কারবারিদের যোগসাজশ রয়েছে। তাদের দাবি, প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ীরা অনেক সময় আইনের আওতার বাইরে থেকে গেলেও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে বেশি অভিযান পরিচালিত হয়। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে মাদক উদ্ধারের ঘটনায়ও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তারা। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তারা কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো সদস্য বা সোর্সের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা সাধারণ মানুষকে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, শুধু মাদকসেবীদের গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। বরং মাদকের উৎস, সরবরাহ চক্র এবং মূল হোতাদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা যেকোনো ব্যক্তি, সে পুলিশ সোর্স হোক বা অন্য কেউ, তাদের বিরুদ্ধেও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান জোরদারের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, তরুণদের জন্য ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। তাহলেই বনানী এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।












