মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী

সারাদেশ

কুরআন শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে কাজ করবে সরকার : রাষ্ট্রপতি

রাজনীতি

বদলি-সংযুক্তির পর যোগদান করা শিক্ষকদের তথ্য আইপিইএমআইএসে হালনাগাদের নির্দেশ

সারাদেশ

জেলেদের জীবিকার সংকট ঘুচাতে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে সরকার: আবু সুফিয়ান এমপি

জেলার সংবাদ

প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

‎মিরসরাইয়ে ‘অটিজম সেন্টার’ এর নামে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ, সাংবাদিকদের দ্বারস্থ ভুক্তভোগী পরিবার

মোঃ নুর নবী রাসেল, মিরসরাই (চট্রগ্রাম) প্রতিনিধি

‎চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ঠাকুরদীঘি–বিশ্বরোড সংলগ্ন রায়পুর ও দুর্গাপুর এলাকায় একটি কথিত **‘অটিজম সেন্টার’**কে কেন্দ্র করে সরকারি জমি দখল, ভূমি জবরদখল এবং নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় এক ভুক্তভোগী পরিবার সাংবাদিকদের দ্বারস্থ হয়েছে।

‎ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মোঃ আজিজুল হক অভিযোগ করে জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে রায়পুর মৌজার নামজারি খতিয়ান নং-১১৯৩, আরএস দাগ নং-৫১২ (অংশ) এবং বিএস দাগ নং-৭৪০ (অংশ)-এ অবস্থিত তাদের আবাসিক বসতবাড়িতে যাতায়াতের জন্য দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রবেশপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের (সওজ) অধিগ্রহণকৃত সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে ওই প্রবেশপথ নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

‎সওজের জমিতে প্রবেশপথ নির্মাণে চুক্তির কথা জানালেন আজিজুল হক

‎আজিজুল হক জানান, জে এল নং-৩৯, এলএ কেস নং-০৯/৭ (১৯৬৬-১৯৬৭) অনুযায়ী অধিগ্রহণকৃত রায়পুর মৌজার আরএস নং-২০৮ (পরবর্তী বিএস দাগ নং-২৩৩ অংশ) দাগভুক্ত জমির মধ্যে সওজের হুকুম দখলকৃত ভূমিতে ৮.১৩ শতক জমির ওপর অস্থায়ী ভিত্তিতে একটি প্রবেশপথ (এ্যাপ্রোচ/সার্ভিস রোড) নির্মাণের জন্য একটি লিখিত চুক্তিপত্র সম্পাদিত হয়।

‎তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালের ৪ জুন তারিখে সড়ক ও জনপদ বিভাগ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত চুক্তি হয়। চুক্তিতে সওজের পক্ষে নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা এবং অপরপক্ষে রোহিত হিসেবে মোঃ আজিজুল হক স্বাক্ষর করেন।

‎সওজের নোটিশের কপি দেখালেন ভুক্তভোগী

‎ভুক্তভোগী আজিজুল হক বলেন, এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড সড়ক উপবিভাগ, চট্টগ্রাম-এর সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী কর্তৃক প্রতিপক্ষ আলমগীর হোসেন বরাবর একটি লিখিত নোটিশ প্রদান করা হয়।

‎নোটিশের স্মারক নম্বর:

‎৩৫.০১.১৫৮৬.৮৪৭.০৪.০২৬.২৫

‎নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের অধিগ্রহণকৃত সরকারি জমির ওপর আলমগীর কর্তৃক অবৈধভাবে নির্মিত দোকানঘর, স্থায়ী/অস্থায়ী স্থাপনা এবং অন্যান্য অবকাঠামো ৭ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় বিধি মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ ছিল।

‎কথিত অটিজম সেন্টার নিয়ে এলাকাবাসীর সন্দেহ

‎এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিপক্ষ আলমগীর হোসেন (পিতা: মৃত মোশারফ হোসেন) দীর্ঘদিন ধরে সেখানে একটি অটিজম সেন্টার পরিচালনার কথা বললেও বাস্তবে সেখানে প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়মিত কোনো কার্যক্রম দেখা যায় না।

‎স্থানীয়রা জানান, প্রতিষ্ঠানটি কাগজে-কলমে সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখানো হলেও এর প্রকৃত কার্যক্রম ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। এলাকাবাসীর মধ্যে অনেকে সন্দেহ করছেন, অটিজম সেন্টারের নাম ব্যবহার করে সরকারি অনুদান গ্রহণ করা হলেও তা সঠিকভাবে ব্যয় করা হচ্ছে কিনা—সে বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

‎মাদক-জুয়া ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

‎এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, কথিত অটিজম সেন্টারের আশপাশের এলাকায় বর্তমানে মাদক, জুয়া এবং নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আসর বসছে। এতে এলাকার সামাজিক পরিবেশ দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা দাবি করেন, এতে যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে এবং এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

‎তাদের মতে, অটিজম সেন্টারকে কেন্দ্র করে সেখানে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যা স্থানীয় পরিবেশ ও জননিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

‎প্রতিপক্ষ আলমগীরের পাল্টা বক্তব্য

‎অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষ আলমগীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি ওই স্থানে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য একটি অটিজম সেন্টার পরিচালনা করছেন।

‎তিনি দাবি করেন, সেখানে প্রতিবন্ধীদের জন্য মাসে একবার টিকা প্রদানসহ স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তবে তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ভুক্তভোগী আজিজুল হক তাদের প্রতিষ্ঠানের পাশে থাকা একটি গভীর নলকূপ ভেঙে ফেলেছে এবং কিছু গাছপালা কেটে ফেলেছে।

‎আলমগীর আরও বলেন, সরকারি জায়গা মাত্র ১২ ফুট উন্মুক্ত রাখার কথা থাকলেও আজিজুল হক নাকি ৫২ ফুট জায়গা দখল করে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে দিয়েছেন। এতে প্রতিবন্ধীদের চলাচলের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

‎তিনি বলেন, সরকারি জায়গা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকার কথা। কিন্তু আজিজুল হক আমাদের প্রতিবন্ধীদের অধিকার হরণ করেছে। প্রয়োজনে আমি উচ্চ আদালতে যাব।

‎তিনি আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে মিলেনি আলমগীরের অভিযোগের সত্যতা

‎সাংবাদিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে আলমগীরের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন চিত্র দেখতে পান। তিনি যে গভীর নলকূপ ভাঙচুরের কথা বলেছেন, সেটি ঘটনাস্থলে অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়। এছাড়া গাছপালা কাটার বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট বা দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

‎প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতির অভিযোগ

‎ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে, ২০২৩ সালের ১৪ জানুয়ারি পুনরায় তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়। এ সময় তাদের অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
‎
‎তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা ভয়ভীতি ও চাপের মধ্যে বসবাস করছেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানালেও এখনো কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও তদন্ত দাবি এ ঘটনায় এলাকাবাসী এবং ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা কথিত অটিজম সেন্টারের প্রকৃত কার্যক্রম, সরকারি অনুদানের ব্যবহার এবং সরকারি জমি দখলের অভিযোগ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ জাহিদুর রহমান জাহিদ ।। মোবাইলঃ ০১৯৩৪-৯৪৮৩১৭। বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ ঢুলিভিটা, ধামরাই, ঢাকা

প্রিন্ট করুন