ইলিয়াছ শাহেদ (গোয়ালন্দ) রাজবাড়ী:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ এর তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে উপজেলা বিএনপির একাংশ। তাদের দাবি, দলীয় তালিকা উপেক্ষা করে বিতর্কিতভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন সদ্য বদলিকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ড থেকে ঝাড়ু হাতে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন গোয়ালন্দ পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জিয়াউল হুদা উজ্জ্বল, সদস্য মিজানুর রহমান লালটু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম মুক্তার, পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মুক্তার মাহমুদ এবং ছাত্রনেতা মেহেদী নাসিম।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি। তারা অভিযোগ করেন, ইউএনও সাথী দাস ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রুহুল আমিনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খাল খনন কর্মসূচির অর্থ ব্যয়ের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সমাবেশে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ৫৫০ জন আবেদনকারীর মধ্য থেকে সম্পূর্ণ মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ৪৭ জন তথ্যসংগ্রহকারী এবং চারজন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক সুপারিশ গ্রহণ করা হয়নি।
সদ্য বদলিকৃত ইউএনও সাথী দাস বলেন, নিয়োগের জন্য একটি দলীয় তালিকা দেওয়া হয়েছিল। সেই তালিকা অনুযায়ী নিয়োগ না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মনগড়া অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বদলিজনিত কারণে ৩ আগস্টই তিনি গোয়ালন্দ ত্যাগ করেছেন। এরপর ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিক্ষোভকে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই সম্পন্ন হয়েছে, কোনো সুপারিশে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।