ইয়াবাসহ এনসিপি নেতা গ্ৰেপ্তার

সারাদেশ

বন্যা মোকাবিলায় সব মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজের আহ্বান

রাজনীতি

শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে উত্তাল দেশ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে দুঃখ প্রকাশ ও পুনঃপরীক্ষার ঘোষণা

সারাদেশ

টাঙ্গাইলের শাড়ি দেশ ও বিদেশে রয়েছে বেশ কদর

লাইফস্টাইল

প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

দিল্লিমুখী কৃষকদের যাত্রা, শম্ভু সীমান্তে পুলিশের বাধা

সকালের বার্তা ডেস্ক

ভারত–যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যচুক্তির বিরুদ্ধে আয়োজিত কিষান মহাপঞ্চায়েতে অংশ নিতে মঙ্গলবার পাঞ্জাবের শত শত কৃষক দিল্লির উদ্দেশে রওনা হন। তবে হরিয়ানায় প্রবেশের প্রধান প্রবেশপথ শম্ভু সীমান্তে হরিয়ানা পুলিশ তাদের অগ্রযাত্রা আটকে দেয়। এর ফলে কৃষকেরা সীমান্ত এলাকাকেই প্রতিবাদস্থলে পরিণত করেন এবং দিল্লিতে শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়ার সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করার অভিযোগ তোলেন।

শম্ভু সীমান্তে পুলিশের ব্যারিকেড ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির ‘দিল্লি চলো-২’ আন্দোলনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। সে সময়ও কৃষকদের রাজধানীতে প্রবেশ ঠেকাতে কংক্রিটের ব্লক, লোহার পেরেক ও বহুস্তরের ব্যারিকেড দিয়ে সীমান্ত সুরক্ষিত করা হয়েছিল। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

বিকেইউ (শহীদ ভগত সিং) নেতা তেজবীর সিং অভিযোগ করেন, হরিয়ানা পুলিশ পাঞ্জাবের সীমানার ভেতরেই ব্যারিকেড স্থাপন করেছে এবং এ বিষয়ে পাঞ্জাব সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। অন্যদিকে পাঞ্জাবের কৃষকদের গাড়িবহর আটকে দেওয়া হলেও হরিয়ানার আমবালা, কুরুক্ষেত্রসহ বিভিন্ন জেলার কৃষকেরা দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখেন।

‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’র ব্যানারে আয়োজিত এই মহাপঞ্চায়েতে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন কৃষক সংগঠন অংশগ্রহণের উদ্যোগ নেয়। কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল কেন্দ্র সরকারের কাছে প্রস্তাবিত ভারত–মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবি জানানো।

কিষান মজদুর সংগ্রাম কমিটির (কেএমএসসি) নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের জানান, কেএমএসসি, কিষান মজদুর মোর্চা (পাঞ্জাব শাখা), আজাদ কিষান মোর্চা এবং বিকেইউ একতা সংগ্রামের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকদের গাড়িবহর দিল্লির উদ্দেশে রওনা হলেও শম্ভু সীমান্তে তাদের আটকে দেওয়া হয়।

পান্ধের আরও উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত ভারত–মার্কিন যৌথ বিবৃতিতে ২০২৬ সালের শরৎকালের মধ্যে একটি বহুমুখী দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যচুক্তির প্রথম ধাপ চূড়ান্ত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর মতে, এই চুক্তি শুধু বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং কৃষি, দুগ্ধ, শিল্প, ডিজিটাল বাণিজ্য, ই-কমার্স, বিনিয়োগ, সরকারি ক্রয়, মেধাস্বত্ব এবং সেবা খাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

কৃষক নেতাদের দাবি, অতীতের মার্কিন বাণিজ্য প্রতিবেদনে ভারতের কৃষি ও দুগ্ধবাজারে অধিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে শুল্ক কমানো এবং সয়াবিন, ভুট্টা, তুলা, ইথানল, আপেল, বাদাম, দুগ্ধজাত পণ্য, পোলট্রি ও মৎস্যপণ্যের ওপর বিদ্যমান বিধিনিষেধ শিথিল করার সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, ভর্তুকিপ্রাপ্ত মার্কিন কৃষিপণ্য ও দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য ভারতীয় বাজার উন্মুক্ত করা হলে দেশের কোটি কোটি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবেন না।

এ ছাড়া কৃষক সংগঠনগুলো আলোচনার স্বচ্ছতার অভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ, প্রস্তাবিত চুক্তির মূল বিষয়বস্তু জনগণের সামনে প্রকাশ করা হয়নি। সংগঠনগুলোর মতে, ভারতের দুগ্ধ খাত প্রায় আট কোটি গ্রামীণ পরিবারের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে এই খাতে সামান্য নেতিবাচক প্রভাবও গ্রামীণ অর্থনীতি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।

সবশেষে ‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’ কেন্দ্র সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ভারত–মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি-সংক্রান্ত সব নথি অবিলম্বে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে এবং কৃষক, শ্রমিক, দুগ্ধ উৎপাদক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা ছাড়া কোনো চুক্তি চূড়ান্ত করা যাবে না।

প্রস্তাবিত ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তিকে কেন্দ্র করে কৃষক সংগঠনগুলোর উদ্বেগ ও আন্দোলন নতুন করে তীব্র হয়েছে। কৃষকদের দাবি, দেশের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির স্বার্থ রক্ষায় চুক্তির বিষয়বস্তু প্রকাশ, স্বচ্ছ আলোচনা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত গ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যদিকে প্রশাসনের নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ ও কৃষকদের প্রতিবাদের কারণে বিষয়টি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ জাহিদুর রহমান জাহিদ । বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ ঢুলিভিটা, ধামরাই, ঢাকা

প্রিন্ট করুন