মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী

সারাদেশ

কুরআন শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে কাজ করবে সরকার : রাষ্ট্রপতি

রাজনীতি

বদলি-সংযুক্তির পর যোগদান করা শিক্ষকদের তথ্য আইপিইএমআইএসে হালনাগাদের নির্দেশ

সারাদেশ

জেলেদের জীবিকার সংকট ঘুচাতে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে সরকার: আবু সুফিয়ান এমপি

জেলার সংবাদ

প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি

ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকা। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন এবং নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে এই দুর্ভোগে ভুগছেন পৌরবাসী।

গত দুই দিনের ভারী বর্ষণে পৌর এলাকায় প্রায় দুই শতাধিক পরিবার পানি বন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিশেষ করে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে এই এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হোন। এদিকে,গত দুই দিনের ভারী বর্ষণের ফলে দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যার শঙ্কা দেখা গেছে। বিভিন্ন স্থানে নদীর বাঁধ ভেঙ্গে সৃষ্টি হয়েছে বন্যার। গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে পানির নীচে। রোপা-আমনের বীজতলা এখন পানির নীচে। অনেকের বাসায়ই বিরাজ করছে হাঁটুপানি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই প্রধান সড়ক, অলিগলি, বাজার ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে সড়কের স্থায়ীত্ব। সেইসাথে পচা ডোবার কচুরীপানাযুক্ত পানি সৃষ্টি করছে নানা রোগ-বালাইয়ের। এতে অসুস্থ হয়ে পরছেন ছোট থেকে বৃদ্ধরা।

জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে সান্তাহার পৌরভার কার্যক্রম শুরু হয়। সময়ের পরিক্রমায় পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের রাস্তা-ঘাট ও পানি নিস্কাশের জন্য ড্রেন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ ৩০ বছরেও দুই নম্বর ওয়ার্ডে কোন রাস্তাঘাট এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়নি। সেজন্য এই এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু পানি জমে।

ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে এই এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হোন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,গত দিনের বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে তাঁদের বাড়ীর সামনে। আবার কারো বাড়ীর উঠানে হাঁটু পানি। এই অবস্থায় প্রায় দুই শতাধিক পরিবার পরেছেন চরম বিপাকে।

উপর পোঁওতা গ্রামের খালেক মিয়া জানান, পৌরসভার মেয়র এবং কাউন্সিলররা কখনোই এই ওয়ার্ডের দিকে নজর দেন না। আমরা অকেক বার ধরণা দিয়েছি। কাজ হয়নি। পৌর এলাকায় অনেক ওয়ার্ডে ইচ্ছেমত অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এই এলাকা তাদের চোখে পড়েনা।

তিনি আরও বলেন ভোট এলেই আমাদের এলাকার সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেয়। আর ভোটে নির্বাচিত হবার পর এই অবহেলিত এলাকায় আর আসেনা। তাই এলাকার সমস্যা কখনোই দূর হয়না।

একই গ্রামের স্বপ্না আক্তার জানান, বিয়ের পর থেকেই দেখছি আমাদের এই পৌর এলাকার কোন উন্নয়ন হয় না। সামান্য বৃষ্টিতেই এই এলাকা পানিমগ্ন হয়ে পরে। বাস্তবসম্মত সমাধান কেউ দিতে পারেনি। এছাড়াও এই এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা পৌর আইনকে বৃদ্ধাআঙ্গুল দেখিয়ে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না রেখেই ব্যক্তিগত অবকাঠামো নির্মাণ করেছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতে বাড়ি ঘর এবং রাস্তা-ঘাট ডুবে যাওয়ায় আমাদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।

দ্রুত এই এলাকার রাস্তা-ঘাট নির্মাণ এবং পানি নিস্কাশনের সমস্যা দূর করা না হলে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি এলাকার ফসল নিয়ে ব্যাপক ক্ষতির সম্মোখীন হবেন কৃষকরা।

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ জাহিদুর রহমান জাহিদ ।। মোবাইলঃ ০১৯৩৪-৯৪৮৩১৭। বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ ঢুলিভিটা, ধামরাই, ঢাকা

প্রিন্ট করুন