মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী
সারাদেশ

মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী
সারাদেশ
কুরআন শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে কাজ করবে সরকার : রাষ্ট্রপতি
রাজনীতি
বদলি-সংযুক্তির পর যোগদান করা শিক্ষকদের তথ্য আইপিইএমআইএসে হালনাগাদের নির্দেশ
সারাদেশ
জেলেদের জীবিকার সংকট ঘুচাতে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে সরকার: আবু সুফিয়ান এমপি
জেলার সংবাদ
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙনে মুহূর্তেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি। গত তিন দিনে উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নে অন্তত ৫০টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে সোমবার ভোরে বিশারপাড়া আশ্রয়ণ এলাকায় মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে ২৫টি বসতবাড়ি নদী গ্রাস করায় হঠাৎ করেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষ।
অব্যাহত এই ভাঙনে শত শত একর আবাদি জমি হারিয়ে যাচ্ছে। গৃহহীন হয়ে পড়া পরিবারগুলো বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চিলমারী ইউনিয়নের শাখাহাতী, কড়াইবরিশাল ও বিশারপাড়াসহ আশপাশের এলাকাজুড়ে তীব্র ভাঙন চলছে। ভাঙন আতঙ্কে অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ও মূল্যবান সামগ্রী দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে।
বর্তমানে ভাঙনের মুখে রয়েছে ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও সামাজিক স্থাপনা। এর মধ্যে মনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কড়াইবরিশাল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কড়াইবরিশাল বাজার, চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং নির্মাণাধীন বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র উল্লেখযোগ্য।

এদিকে নদীগর্ভে ১০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি বিলীন হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৪০০ পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে।
ভিটেমাটি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেওয়া আতিকুর রহমান, আনসার আলী, লাল মিয়া ও শাহিন মিয়াসহ একাধিক ভুক্তভোগী জানান, ব্রহ্মপুত্রের আকস্মিক ভাঙনে তারা মুহূর্তেই তাদের সাজানো সংসার ও লাখ লাখ টাকার সম্পদ হারিয়েছেন। তারা বলেন, “আমরা ত্রাণ চাই না, আমরা চাই স্থায়ীভাবে নদীভাঙন থেকে রক্ষা।”
চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গত দুই বছরে এই ইউনিয়নের প্রায় ৮৫০টি পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। বর্তমান ভাঙনের গতি অব্যাহত থাকলে খুব শিগগিরই ইউনিয়নের বড় একটি অংশসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারিভাবে সহায়তা প্রদান করা হবে। তবে ভাঙনের ব্যাপকতা এতটাই বেশি যে তাৎক্ষণিকভাবে পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, চরাঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি এই ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জটিল। ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ১ হাজার ৫০০টি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলো দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন।