মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী
সারাদেশ

মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী
সারাদেশ
কুরআন শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে কাজ করবে সরকার : রাষ্ট্রপতি
রাজনীতি
বদলি-সংযুক্তির পর যোগদান করা শিক্ষকদের তথ্য আইপিইএমআইএসে হালনাগাদের নির্দেশ
সারাদেশ
জেলেদের জীবিকার সংকট ঘুচাতে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে সরকার: আবু সুফিয়ান এমপি
জেলার সংবাদ
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আদর্শিক রাজনীতির চেয়ে চাটুকারিতা বা তোষামোদি সংস্কৃতির বিস্তার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সচেতন নাগরিকদের মতে, কোনো রাজনৈতিক দলই নীতিগতভাবে খারাপ নয়; বরং দলের ভেতরে থাকা একশ্রেণীর স্বার্থান্বেষী “পা-চাটা চামচা” বা তোষামোদকারীদের কারণেই রাজনৈতিক পরিবেশ কলুষিত হচ্ছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন নাগরিক ফোরামে এই রাজনৈতিক অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে। অনেকেই হুংকার বা ধমকের রাজনীতি পরিহার করে সুস্থ ধারার বাকস্বাধীনতার দাবি তুলছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতা পরিবর্তনের সাথে সাথে একশ্রেণীর মানুষের খোলস পাল্টানোর প্রবণতা নতুন কিছু নয়। যেই দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, এই স্বার্থান্বেষী মহলটি সর্বদা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত থাকে। এদের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
১/সুযোগসন্ধানী মনোভাব: দলের আদর্শের প্রতি কোনো আনুগত্য না রেখে কেবল ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করা।
২/ভুল তথ্য সরবরাহ:** দলের শীর্ষ নেতাদের খুশি রাখতে মাঠপর্যায়ের প্রকৃত চিত্র আড়াল করে শুধু মিথ্যা প্রশংসা করা।
৩/সমালোচকদের দমন:** সাধারণ মানুষের যৌক্তিক কণ্ঠরোধ করতে ধমক বা ভয়-ভীতি প্রদর্শনের পথ বেছে নেওয়া।
সাধারণ জনগণের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা দলের বিরুদ্ধে সমালোচনা করার অধিকার সবার আছে। কিন্তু যারা নিজেদের কোনো শক্ত নৈতিক ভিত্তি বা পরিচয় ছাড়াই কেবল অন্যের দালালি করে টিকে থাকে, তাদের অন্যের সমালোচনা করার কোনো যোগ্যতা নেই।
একজন সচেতন নাগরিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,আমাদের বয়স কম নয়, আর আমরা কোনো অবুঝ দেশের নাগরিকও নই যে ধমক দিয়ে আমাদের মুখ বন্ধ করা যাবে। জনগণ ভালো করেই জানে কারা সুবিধাবাদী আর কারা প্রকৃত অর্থে দল বা দেশের জন্য কাজ করে। কোনো বড় নেতার বিরুদ্ধে কথা বলার আগে এই চাটুকারদের নিজেদের আসল পরিচয় ও অবস্থান নিয়ে ভাবা উচিত।”*
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে এই “চামচা” বা সুবিধাবাদীদের কবল থেকে মুক্ত হতে হবে। দল অন্ধ প্রশংসাকারীদের চেয়ে গঠনমূলক সমালোচকদের মূল্যায়ন করলে রাজনীতি যেমন পরিচ্ছন্ন হবে, তেমনি জনগণের কাছে দলের গ্রহণযোগ্যতাও বৃদ্ধি পাবে। চাটুকারিতার এই সংস্কৃতি বন্ধ না হলে রাজনীতি সাধারণ মানুষের কল্যাণ থেকে দূরে সরে যাবে।