ইয়াবাসহ এনসিপি নেতা গ্ৰেপ্তার

সারাদেশ

বন্যা মোকাবিলায় সব মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজের আহ্বান

রাজনীতি

শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে উত্তাল দেশ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে দুঃখ প্রকাশ ও পুনঃপরীক্ষার ঘোষণা

সারাদেশ

টাঙ্গাইলের শাড়ি দেশ ও বিদেশে রয়েছে বেশ কদর

লাইফস্টাইল

প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কেশবপুর বাহারুল উলুম কামিল মাদরাসায় সাবেক অধ্যক্ষের পুনর্বহাল চেষ্টায় স্বাক্ষর জালের অভিযোগ

সাদেক হোসেন কেশবপুর প্রতিনিধি:

যশোরের কেশবপুর বাহারুল উলুম কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ ফসিয়ার রহমানের চাকরিতে পুনর্বহাল চেষ্টাকে কেন্দ্র করে কমিটির কয়েকজন সদস্যের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তিনি ২১ আগস্ট ২০২৪ তারিখে অধ্যক্ষ পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও সম্প্রতি গোপনে মিটিং দেখিয়ে পুনরায় দায়িত্বে ফেরার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন কমিটির কয়েকজন সদস্য।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর বাহারুল উলুম কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ বোরহানউদ্দিন ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি মাদরাসার সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চাকরিতে পুনর্বহালের জন্য ফসিয়ার রহমান ৯ জুন ২০২৬ তারিখে গোপনে একটি মিটিং দেখান। ওই মিটিংকে কেন্দ্র করে কমিটির পাঁচজন সদস্যের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট সদস্যরা। যাদের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ উঠেছে তারা হলেন—সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল গফুর গাজী, বিদ্যোৎসাহী সদস্য জনাব মোঃ আতাউর রহমান, নিয়মিত অভিভাবক সদস্য মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন, মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন ও মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন।

 

তারা জানান, সাবেক অধ্যক্ষ ফসিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, আচরণগত সমস্যা ও প্রশাসনিক অভিযোগ রয়েছে। অথচ তাদের না জানিয়ে এবং তাদের স্বাক্ষর না নিয়েই মিটিং দেখানো হয়েছে। তারা দাবি করেন, “আমরা স্বাক্ষর করিনি, অথচ আমাদের স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। এতে আমাদের মান-সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আইন অনুযায়ী যে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, আমরা সেই ব্যবস্থা নেব। প্রয়োজনে মানহানির মামলা করা হবে।”

 

নিয়মিত অভিভাবক সদস্য মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন বলেন, “আমরা কমিটিতে থাকা সত্ত্বেও কোনো কিছু জানি না। যেদিন মিটিং দেখানো হয়েছে, সেদিন আমাদের কাউকে জানানো হয়নি। তিনি দুই-তিনজন লোকসহ আরও কিছু লোক নিয়ে মব সৃষ্টি করে নিজেই অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আমাদের স্বাক্ষর না নেওয়া সত্ত্বেও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।”

 

এ বিষয়ে কেশবপুর বাহারুল উলুম কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ ও বর্তমান সভাপতি বোরহানউদ্দিন বলেন, “ফসিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ ছিল। তিনি কোনো চাপের মুখে নয়, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে একটি মিটিংয়ে তার পদত্যাগপত্র ও সংশ্লিষ্ট এজেন্ডা উপস্থাপন করা হয়। পরে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আলোচনা করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।”

 

তিনি আরও বলেন, “তদন্ত কমিটি দীর্ঘদিন তদন্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেয়। ওই প্রতিবেদনে ফসিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়, বিশেষ করে আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি উঠে আসে। পদত্যাগপত্র ও তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।”

 

বোরহানউদ্দিন আরও জানান, “পরে শুনতে পাই, অব্যাহতি পাওয়ার পরও তিনি আবার নিজে কমিটি দেখিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন। যদি কোনো কমিটি হয়ে থাকে, সেটি সঠিক পদ্ধতিতে হয়নি। আজ আমি স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরেছি। আইন অনুযায়ী যে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, আমরা সেই ব্যবস্থা নেব।”

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক অধ্যক্ষ ফসিয়ার রহমানের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ জাহিদুর রহমান জাহিদ । বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ ঢুলিভিটা, ধামরাই, ঢাকা

প্রিন্ট করুন