ইয়াবাসহ এনসিপি নেতা গ্ৰেপ্তার

সারাদেশ

বন্যা মোকাবিলায় সব মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজের আহ্বান

রাজনীতি

শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে উত্তাল দেশ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে দুঃখ প্রকাশ ও পুনঃপরীক্ষার ঘোষণা

সারাদেশ

টাঙ্গাইলের শাড়ি দেশ ও বিদেশে রয়েছে বেশ কদর

লাইফস্টাইল

প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

দখল আর দূষণে মৃত প্রায় আদমদীঘির রামশালা খাল

আমিনুল জুয়েল, আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি

দখল আর দূষণের কবলে পড়ে পশ্চিম বগুড়ার আদমদীঘি শহরের ধার ঘেঁষে প্রবাহিত রামশালা খালটি মৃত প্রায় এখন। যে খাল দিয়ে এক সময় নৌকা চলাচল করতো, এখন সেই খাল পরিণত হয়েছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপে। এ খালের বেশির ভাগই ময়লা-আবর্জনায় ভরা। খালপাড়ে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ঘরবাড়ি, দোকানপাট, রিকশার গ্যারেজ। ভ্যারাইটি শপের ময়লা-আবর্জনা, প্লাস্টিক ব্যাগ, বোতল, কাঁচা তরকারীর উচ্ছিষ্ঠাংশ ও বাজারের বর্জ্যসহ নানা ধরনের আবর্জনায় খালের দুই পাশ ভরাট হয়ে গেছে। ময়লার ভাগাড়েও গজিয়েছে বিভ্ন্নি গাছের চারা।

ঘড়-বাড়ীর সব ময়লা-আবর্জনা খালে ফেলা হচ্ছে। এদিকে, কচুরিপানা পানির স্বাভাবিক প্রবাহকে থামিয়ে দিয়েছে। মরা খালটি এখন মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আবর্জনার দুর্গন্ধে কষ্টকর হয়ে পড়েছে জনসাধারনের চলাচল। বিশেষকরে, ব্রিজ পারাপারের সময় এক হাতে নাক চেপে চলাচল করতে হয়। মশা আর দূর্গন্ধে অতিষ্ট এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রামশালা খালের ওপর নির্মিত হয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্রিজ। ওই ব্রিজের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে দখল করে গড়ে উঠেছে অনেক দোকান ও ঘড়-বাড়ী। এদিকে, খালের দুই পাশে দেদারছে ফেলা হচ্ছে ময়লা আবর্জনা। ফলে উভয় দিক থেকে সরু হয়ে এসেছে ব্রিজের মুখ।

পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক না থাকায় অনেক দূর পর্যন্ত আটকে আছে কচুরিপানা। অতিরিক্ত কচুরীপানা ও ময়লা-আবর্জনার কারনে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহে বিঘ্ন ঘটছে। পানি বদ্ধ থাকায় দূর্গন্ধ এবং মশাদের প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে খালটি।

কাঠ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু জানান, খালটি আগে পরিষ্কার-পরিচ্ছ্ন্ন ছিল। ইদানীং এটি ময়লার ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে। নাক চেপে ব্রিজ পার হতে হয়। অনেকেতো খালের মধ্যেই বাড়ী ও দোকানের পিলার গেড়েছে। দেখার কেউ নেই। যদিও মাঝে মাঝে সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। কিছুদিন পর আবার নতুন করে দখল শুরু হয়।

তিনি আরও বলেন, খালটির কোথাও কোথাও পানি আছে। কিন্তু তা কালচে বর্ণ আকার ধারণ করেছে এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফলে এই পানিতে সহজেই মশা বংশবিস্তার করছে। বিপত্তি বেড়ে যায় যখন কেউ ময়লার ভাগাড়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। ওই সময় এই এলাকায় থাকাই কষ্টকর হয়ে ওঠে।

স্থানীয় চা বিক্রেতা ফিরোজ জানান, নোংরা পানি আর আবর্জনা পুড়ানোর ফলে দূর্গন্ধ ছড়ায়। দোকানে টেকা মুশকিল হয়। কাস্টমার অনেক সময় এখানে না বসে চলে যায়। কয়েক বছর ধরেই এখানে দোকান। কেউ কখনো কিছু বলে না। খালে এমন ময়লা সারা বছরই জমে থাকে। এসব ময়লা পানির সঙ্গে ভেসে আসে। আর এখান থেকে যেতে পারে না।

এলাকাবাসীর চাওয়া, খালটি যেন পুনঃখনন করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হোক।

এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুমা বেগম বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জনদুর্ভোগ কমাতে রামশালা খালটি দ্রুত সময়ে পরিষ্কার করা হবে। খাল রক্ষা করা গেলে জলাবদ্ধতা দূর হবে। সেইসাথে যেসব সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ জাহিদুর রহমান জাহিদ । বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ ঢুলিভিটা, ধামরাই, ঢাকা

প্রিন্ট করুন