মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী
সারাদেশ

মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী
সারাদেশ
কুরআন শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে কাজ করবে সরকার : রাষ্ট্রপতি
রাজনীতি
বদলি-সংযুক্তির পর যোগদান করা শিক্ষকদের তথ্য আইপিইএমআইএসে হালনাগাদের নির্দেশ
সারাদেশ
জেলেদের জীবিকার সংকট ঘুচাতে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে সরকার: আবু সুফিয়ান এমপি
জেলার সংবাদ
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে ধরা হয় গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে “সাংবাদিকের কণ্ঠ রোধ করার নামই কি স্বাধীনতা?”—এই প্রশ্নটি জনমনে এবং সুশীল সমাজে এক বিশাল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যখন কোনো রাষ্ট্রে সত্য প্রকাশে সাংবাদিকরা বাধার সম্মুখীন হন বা ভয়ের সংস্কৃতির শিকার হন, তখন স্বাধীনতার প্রকৃত সংজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
তথ্য প্রবাহে বাধা ও গণতন্ত্রের সংকট একটি স্বাধীন দেশে নাগরিকদের সঠিক তথ্য জানার অধিকার রয়েছে। সাংবাদিকরা সেই তথ্যের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন। তবে যখন বিভিন্ন আইনি জটিলতা, শারীরিক লাঞ্ছনা বা অদৃশ্য চাপের মাধ্যমে সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়, তখন সেটি আর স্বাধীনতা থাকে না; বরং তা একধরণের ‘তথ্যগত একনায়কতন্ত্রে’ রূপ নেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংবাদিকের কলম থেমে যাওয়ার অর্থ হলো সমাজের দর্পণ ঝাপসা হয়ে যাওয়া।
দুর্নীতি, অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনার খবর যদি জনসমক্ষে না আসে, তবে ক্ষমতার অপব্যবহার বৃদ্ধি পায়। সমালোচনার মুখে গণমাধ্যম নীতি মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে ক্রমাগত অবনতি এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তার অভাবকে অনেকে স্বাধীনতার অপব্যাখ্যা হিসেবে দেখছেন। সাধারণ মানুষের ভাষায়, “যদি সত্য বললেই বিপদে পড়তে হয়, তবে সেই স্বাধীনতা কেবল নামমাত্র।” বিশেষ করে মফস্বল সাংবাদিকতায় ঝুঁকি আরও বেশি, যেখানে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের চাপের মুখে অনেক সময় বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ব্যাহত হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সাধারণ নাগরিকরা মনে করছেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা মানে কেবল সংবাদ প্রকাশ নয়, বরং নির্ভয়ে সত্য বলার নিশ্চয়তা। সাংবাদিকের কণ্ঠ রোধ করা মানেই হলো সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া। স্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে, ক্ষমতার সমালোচনা করা যাবে না। বরং গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করে রাষ্ট্রকে সঠিক পথে পরিচালনা করাই প্রকৃত স্বাধীনতার সার্থকতা।
সাংবাদিকরা যাতে কোনো ভয় বা চাপের ঊর্ধ্বে থেকে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, “কণ্ঠরোধ” আর “স্বাধীনতা” শব্দ দুটি একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠা হবে গণতন্ত্রের জন্য এক অশনি সংকেত।