মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী
সারাদেশ

মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী
সারাদেশ
কুরআন শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে কাজ করবে সরকার : রাষ্ট্রপতি
রাজনীতি
বদলি-সংযুক্তির পর যোগদান করা শিক্ষকদের তথ্য আইপিইএমআইএসে হালনাগাদের নির্দেশ
সারাদেশ
জেলেদের জীবিকার সংকট ঘুচাতে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে সরকার: আবু সুফিয়ান এমপি
জেলার সংবাদ
রাজশাহী মহানগরীতে দায়ের করা একটি বিস্ফোরক মামলাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, চার বছর আগে নিহত এক কিশোরকে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের ঘটনায় আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী মহানগরীর সুলতানাবাদ এলাকার বাসিন্দা শাজাহান আলী। এজাহার অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে রফিকুল ইসলাম পাখি এবং ৩ নম্বর আসামি হিসেবে তার ছেলে সানির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, সানি নিজেই বিস্ফোরণ ঘটান এবং ঘটনাস্থলে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। অভিযুক্ত সানি চার বছর আগেই নিহত হয়েছেন। ২০২২ সালের ৩ জুলাই রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের সামনে থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সে সময় তিনি এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন এবং তার হত্যাকাণ্ড ব্যাপক আলোচিত হয়। পরবর্তীতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২০২৪ সালের ১২ মার্চ আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।
নিহত সানির মা মোসাঃ চম্পা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, “আমার ছেলে চার বছর আগেই মারা গেছে। সে আবার কীভাবে এই মামলার আসামি হয়? এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা।”
একই ক্ষোভ প্রকাশ করে সানির ফুপু রিনা খাতুন বলেন, “আমাদের ছেলে কি কবর থেকে উঠে এসে বোমাবাজি করে গেল? বাড়ি এত কাছে, আমাদের সঙ্গে দেখা করল না কেন?”—তার এই প্রশ্নে ঘটনাটি নিয়ে জনমনে আরও সন্দেহ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, মামলার ১ নম্বর আসামি রফিকুল ইসলাম পাখি রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক। সম্প্রতি তাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং গত ২২ এপ্রিল শ্রমিকরা তাকে অবরুদ্ধ করে সংগঠনের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে নগরের ভদ্রা মোড়ের স্মৃতি অম্লান চত্বরে পাখির গ্রেপ্তার ও পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন করেন একদল শ্রমিক। এতে বিভিন্ন রুটের বাসচালক, সুপারভাইজার ও হেলপাররা অংশ নেন। তারা দ্রুত ইউনিয়নের নির্বাচন দেওয়ারও দাবি জানান।
অন্যদিকে, একই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া নিজাম উদ্দিন (১৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক)-এর মুক্তির দাবিতে সোমবার দুপুরে সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে মানববন্ধন করেন যুবদলের নেতাকর্মীরা। তারা নিজামকে নির্দোষ দাবি করে তার মুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট থানার ওসির প্রত্যাহারের দাবি জানান।