মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী
সারাদেশ

মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী
সারাদেশ
কুরআন শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে কাজ করবে সরকার : রাষ্ট্রপতি
রাজনীতি
বদলি-সংযুক্তির পর যোগদান করা শিক্ষকদের তথ্য আইপিইএমআইএসে হালনাগাদের নির্দেশ
সারাদেশ
জেলেদের জীবিকার সংকট ঘুচাতে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে সরকার: আবু সুফিয়ান এমপি
জেলার সংবাদ
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় টানা কয়েক দিনের কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলের মাঠ কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি ও গাছপালার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন বোরো ধান ও ভুট্টা চাষিরা। পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়া এবং জমিতে পানি জমে থাকার কারণে কৃষকদের সারা বছরের পরিশ্রম এখন হুমকির মুখে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভোর থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত কয়েক দফায় ঝড় বয়ে যায় ঘোড়াঘাটের ওপর দিয়ে। এতে পৌরসভাসহ উপজেলার অন্তত চারটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে। একই সঙ্গে টানা বৃষ্টির কারণে খেটে খাওয়া দিনমজুর ও পরিবহন শ্রমিকদের কাজ বন্ধ থাকায় তাদের জীবনযাপনও চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে।
উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের বলগাড়ি গ্রামের কৃষক রবিউল হোসেন বলেন,
“অনেকেই ভুট্টা কাটার পর ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ ঝড় ও বৃষ্টিতে ভুট্টা ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মাঠের ধান ও ভুট্টা গাছ সব মাটিতে শুয়ে পড়েছে, যা আর ঠিকভাবে ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে না।”
একই চিত্র দেখা গেছে পালশা ইউনিয়নের আমড়া গ্রামেও। কৃষক মো. মাসুদ ইসলাম বলেন,
“জমিতে পানি জমে থাকায় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানি নামানোর দ্রুত কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, ফসলের ওপর নির্ভর করেই তাদের সারা বছরের সংসার চলে। এখন ফসল নষ্ট হওয়ায় ঋণ পরিশোধ, পরিবার চালানো—সবকিছু নিয়েই তারা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। অনেকেই দ্রুত সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঘোড়াঘাট উপজেলায় প্রায় ৯ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান এবং প্রায় ১ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। সাম্প্রতিক এই দুর্যোগে এর একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রফিকুজ্জামান জানান,
“কালবৈশাখীর প্রভাবে বোরো ধান ও ভুট্টার ক্ষতি হয়েছে। আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত সহায়তা প্রদান করা যায়।”
স্থানীয়রা বলছেন, প্রতি বছরই এই সময়ে কালবৈশাখী ঝড়ের ঝুঁকি থাকলেও এমন টানা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা বিরল। তারা কৃষকদের জন্য জরুরি সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।