মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী

সারাদেশ

কুরআন শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে কাজ করবে সরকার : রাষ্ট্রপতি

রাজনীতি

বদলি-সংযুক্তির পর যোগদান করা শিক্ষকদের তথ্য আইপিইএমআইএসে হালনাগাদের নির্দেশ

সারাদেশ

জেলেদের জীবিকার সংকট ঘুচাতে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে সরকার: আবু সুফিয়ান এমপি

জেলার সংবাদ

প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

‎সীতাকুণ্ডে অবৈধ জিঙ্ক পাউডার মজুদ: বিস্ফোরণ ঝুঁকিতে জনপদ, নীরব প্রশাসন

‎মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

‎চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কদম রসুল এলাকায় অনুমোদনহীন ভাবে বিপজ্জনক জিঙ্ক পাউডার মজুদের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় জনপদ, পরিবেশ ও জননিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

 

‎সরেজমিনে দেখা গেছে, কদম রসুল এলাকার পূর্ব পাশে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত এমটিএস রোলিং মিলের ভেতরে খোলা অবস্থায় স্তূপ করে রাখা হয়েছে বিপুল পরিমাণ দাহ্য জিঙ্ক পাউডার।

 

‎কোনো ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা বা নিয়ন্ত্রিত সংরক্ষণ ছাড়াই এসব ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক রাখা হচ্ছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও শিল্প নিরাপত্তা বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

 

‎স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ অবৈধ কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে যেকোনো সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

 

‎বিশেষজ্ঞদের মতে, জিঙ্ক পাউডার অত্যন্ত দাহ্য ও প্রতিক্রিয়াশীল পদার্থ। সামান্য তাপ, আর্দ্রতা বা অন্য কোনো রাসায়নিকের সংস্পর্শে এলেই এটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। এছাড়া এর ক্ষুদ্র ধূলিকণা শ্বাসের সঙ্গে মানবদেহে প্রবেশ করলে শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের জটিলতা এবং দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে এটি পরিবেশ দূষণেরও বড় উৎস।

 

‎অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি, সীতাকুণ্ড বিএনপির সাবেক নেতা নুর ইসলাম সেক্রেটারির ছেলে রায়হান, লাইসেন্স না থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তার দাবি, শিপইয়ার্ড থেকে জাহাজ ভাঙার মাধ্যমে প্রাপ্ত ধাতব উপকরণ বৈধ হওয়ায় এসব জিঙ্ক পাউডার কেনাবেচায় আলাদা অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।

 

‎তবে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও দায়িত্বশীল মহল বলছেন, জাহাজ ভাঙা শিল্প থেকে প্রাপ্ত যেকোনো উপকরণ পুনর্বিক্রয় বা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্র, লাইসেন্স এবং বিপজ্জনক পদার্থ ব্যবস্থাপনার জন্য নির্ধারিত সরকারি নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ বাধ্যতামূলক।

 

‎এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল না। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অবহিত করা হলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

 

‎অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোঃ আশরাফ উদ্দিন জানান, বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

‎এদিকে অভিযোগ উঠেছে, এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে সাংবাদিকদের ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর একটি অনলাইন ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে প্রতিবেদক ও তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

 

‎এ ঘটনা শুধু পরিবেশ ও জননিরাপত্তা নয়, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

 

‎স্থানীয়দের জোর দাবি, অবিলম্বে এই অবৈধ জিঙ্ক পাউডার মজুদ বন্ধ করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং পুরো এলাকাকে সম্ভাব্য বিপর্যয় থেকে রক্ষা করা হোক।

 

‎পরিবেশ রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ জাহিদুর রহমান জাহিদ ।। মোবাইলঃ ০১৯৩৪-৯৪৮৩১৭। বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ ঢুলিভিটা, ধামরাই, ঢাকা

প্রিন্ট করুন