মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী

সারাদেশ

কুরআন শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে কাজ করবে সরকার : রাষ্ট্রপতি

রাজনীতি

বদলি-সংযুক্তির পর যোগদান করা শিক্ষকদের তথ্য আইপিইএমআইএসে হালনাগাদের নির্দেশ

সারাদেশ

জেলেদের জীবিকার সংকট ঘুচাতে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে সরকার: আবু সুফিয়ান এমপি

জেলার সংবাদ

প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

দখল আর দূষণে মৃতপ্রায় বায়েক-চারুয়া খাল: জনজীবনে চরম দুর্ভোগ, নিরুপায় কৃষক

কসবা, (ব্রাহ্মনবাড়িয়া) প্রতিনিধি

বাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের বুক চিরে একসময় যে খালটি প্রমত্তা বিজনা নদী থেকে শুরু হয়ে বায়েক ও চারুয়া মৌজা দিয়ে সালদানদী পর্যন্ত প্রবাহিত হতো, আজ তা কেবলই স্মৃতির পাতায়। এককালের প্রবাহমান এই খালটি এখন একটি সরু ড্রেনে পরিণত হয়েছে। কোথাও বা প্রভাবশালী মহলের দখলে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে এই জলপথ। ফলে বর্ষায় কৃত্রিম বন্যা আর শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় গ্রামের কৃষক।

গ্রামের প্রবীণদের মতে, এই খালটি ছিল এই অঞ্চলের প্রাণভোমরা। একসময় গ্রামের কিশোররা এখানে সাঁতার কাটত, জেলেরা ধরত দেশি মাছ। কৃষকরা খালের পানি দিয়ে তাদের ফসলি জমিতে সেচ দিতেন। অথচ আজ সেই খালটি ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ড্রেনের সাথে তুলনা করলেও যেন খালটির বর্তমান অবস্থাকে ছোট করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক দশকে এলাকার প্রভাবশালী মহলের লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে এই খালের ওপর। খালের অনেক অংশ ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে স্থাপনা, যার ফলে খালের স্বাভাবিক গতিপথ একেবারেই রুদ্ধ হয়ে গেছে। তেরশত নদীর এই বাংলাদেশে একটি জনগুরুত্বপূর্ণ খাল এভাবে বিলীন হয়ে যাওয়াকে পরিবেশ বিদরা অশনি সংকেত হিসেবে দেখছেন।

২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় বায়েক ইউনিয়নের মানুষ খালের অভাব হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল বা পানি বের হওয়ার মতো কোনো পথ না পাওয়ায়, তা সরাসরি গ্রামের মানুষের বসতবাড়ির ওপর দিয়ে বয়ে যায়।

“যদি এই খালটি সচল থাকত, তবে বন্যার পানি জনপদের ওপর দিয়ে না গিয়ে নির্বিঘ্নে নদীতে চলে যেত। আমাদের ঘরবাড়ি রক্ষা পেত।”
— এক স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দা।

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পানি সরার পথ না থাকায় সৃষ্টি হয় কৃত্রিম বন্যা। নষ্ট হয় কৃষকের কষ্টের ফসল, জনজীবন হয়ে পড়ে স্থবির। অন্যদিকে, সেচের অভাবে শীতকালীন ফসল উৎপাদনও এখন হুমকির মুখে।

বায়েকে একটি সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে এই খালটি খনন করা এখন সময়ের দাবি। দখলদারদের হাত থেকে খালটি উদ্ধার করে এর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে উপজেলা প্রশাসক ও জেলা প্রশাসক এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ইউনিয়নবাসী। নদীমাতৃক বাংলার এই ক্ষুদ্র অংশটি কি তবে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে, নাকি আবার ফিরে পাবে তার হারানো যৌবন? এই প্রশ্ন এখন প্রতিটি বায়েক বাসীর।

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ জাহিদুর রহমান জাহিদ ।। মোবাইলঃ ০১৯৩৪-৯৪৮৩১৭। বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ ঢুলিভিটা, ধামরাই, ঢাকা

প্রিন্ট করুন