মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী
সারাদেশ

মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী
সারাদেশ
কুরআন শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে কাজ করবে সরকার : রাষ্ট্রপতি
রাজনীতি
বদলি-সংযুক্তির পর যোগদান করা শিক্ষকদের তথ্য আইপিইএমআইএসে হালনাগাদের নির্দেশ
সারাদেশ
জেলেদের জীবিকার সংকট ঘুচাতে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে সরকার: আবু সুফিয়ান এমপি
জেলার সংবাদ
বাংলা সনের প্রথম দিন, পহেলা বৈশাখ—বাংলাদেশসহ বাঙালি সমাজে একটি বহুল প্রচলিত সাংস্কৃতিক উৎসব। এ দিনকে কেন্দ্র করে মেলা, শোভাযাত্রা, গান-বাজনা ও বিভিন্ন আয়োজন দেখা যায়। তবে একজন সচেতন মুসলিমের জন্য প্রশ্ন হলো—এই দিনটি উদযাপন করা ইসলামের দৃষ্টিতে কতটুকু বৈধ? কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে এ বিষয়ে কী নির্দেশনা রয়েছে?
আল্লাহ তাআলা বলেন:“তোমরা কি জাহেলিয়াতের বিধান কামনা করছো? যারা দৃঢ় বিশ্বাসী, তাদের জন্য বিধানদানে আল্লাহর চেয়ে উত্তম কে?”
— (সূরা আল-মায়িদাহ: ৫০)
এই আয়াত থেকে স্পষ্ট হয়, মুসলিমদের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত বিধানই সর্বোত্তম। ইসলাম নির্ধারিত জীবনব্যবস্থার বাইরে অন্য কোনো ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক প্রথাকে অনুসরণ করা সতর্কতার দাবি রাখে বিশেষত যদি তা অমুসলিমদের ধর্মীয় সংস্কৃতির অনুকরণ হয়।রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
রাসূল ﷺ যখন মদিনায় আগমন করেন, তখন লোকদের দুটি উৎসব পালনের রীতি ছিল। তিনি বলেন:“আল্লাহ তোমাদের জন্য এই দুই দিনের পরিবর্তে উত্তম দুটি দিন নির্ধারণ করেছেন ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা(সুনান আবু দাউদ: ১১৩৪)
এই হাদীস দ্বারা স্পষ্ট যে, ইসলামে নির্ধারিত উৎসব কেবল দুটি—ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। এর বাইরে নতুন কোনো উৎসবকে ধর্মীয় বা আনন্দ উৎসব হিসেবে গ্রহণ করা শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ নয়।
রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:“যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।”(সুনান আবু দাউদ: ৪০৩১)
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা (রহঃ) বলেন:
“الأعياد من جملة الشرع والمناهج والمناسك التي قال الله فيها: لكل أمة جعلنا منسكًا هم ناسكوه”
(اقتضاء الصراط المستقيم)
অর্থ: “উৎসবসমূহ শরীয়তের অন্তর্ভুক্ত বিষয়, যা আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন।”
তিনি আরও বলেন:
“অমুসলিমদের উৎসবে অংশগ্রহণ করা তাদের অনুসরণের শামিল।”
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) বলেন:
“কুফরীদের উৎসব উপলক্ষে তাদের সাথে সাদৃশ্য করা হারাম।”
আশরাফ আলী থানভী (রহঃ)বলেন“হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কোনো অনুষ্ঠান মুসলমানদের জন্য পরিত্যাজ্য।”
আবুল আ’লা মওদূদী (রহঃ)বলেন“যে জাতি অন্য জাতির সংস্কৃতি অন্ধভাবে অনুসরণ করে, তারা ধীরে ধীরে নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলে।”
সালেহ আল-ফাওযান (হাফিঃ)বলেন“অমুসলিমদের উৎসব পালন করা হারাম, যদিও তা কেবল আনন্দের উদ্দেশ্যে করা হয়।”
শাইখুল ইসলাম ইবন বায (রহঃ)বলেন “অমুসলিমদের জাতীয় বা ধর্মীয় দিবস উদযাপন করা জায়েয নয়, কারণ এতে তাদের অনুকরণ রয়েছে।”
আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ (হাফিঃ)বলেন“মুসলমানদের উচিত কেবল শরীয়ত নির্ধারিত ঈদেই আনন্দ করা, নতুন কোনো উৎসব প্রবর্তন করা বিদআত।”
পহেলা বৈশাখের বিভিন্ন আয়োজন—যেমন মঙ্গল শোভাযাত্রা, প্রতীকী মূর্তি, গান-বাজনা ইত্যাদি—অনেক ক্ষেত্রে হিন্দু ও অন্যান্য সংস্কৃতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ কারণে আলেমগণ এটিকে ‘তাশাব্বুহ বিল কুফফার’ (অমুসলিমদের অনুকরণ) হিসেবে বিবেচনা করেছেন। এই দিনকে পালন করলে ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। সালাফে সালেহীনদের পথ অনুসরণকারী আলেমদের মতে, ইসলামে নতুন কোনো উৎসব সংযোজন করা বিদআত হিসেবে গণ্য। তাই তা থেকে বিরত থাকা একজন মুসলিমের জন্য উত্তম ও নিরাপদ পথ।ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে আনন্দ-উৎসবেরও নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারিত। কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা মুসলিমদের জন্য হারাম এবং পরিত্যাজ্য। তাই একজন ঈমানদার মুসলিমের উচিত—শরীয়তের নির্দেশনা মেনে চলা এবং সন্দেহযুক্ত বিষয় থেকে নিজেকে হেফাজত করা।
“যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বিষয় থেকে বেঁচে থাকে, সে তার দ্বীন ও সম্মান রক্ষা করে।”
— (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)