মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী
সারাদেশ

মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী
সারাদেশ
কুরআন শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে কাজ করবে সরকার : রাষ্ট্রপতি
রাজনীতি
বদলি-সংযুক্তির পর যোগদান করা শিক্ষকদের তথ্য আইপিইএমআইএসে হালনাগাদের নির্দেশ
সারাদেশ
জেলেদের জীবিকার সংকট ঘুচাতে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে সরকার: আবু সুফিয়ান এমপি
জেলার সংবাদ
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নে থোওয়াই অং ম্রো (১০) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে আলীকদম সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত থোওয়াই অং ম্রো কুরুকপাতা মৈত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র এবং কুরুকপাতা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রেম্পা কারবারি পাড়ার বাসিন্দা। তার পিতা থংওয়াই ম্রো।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে বিদ্যালয়ের হোস্টেলে অবস্থানকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুটি। তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষকরা তাকে প্রথমে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দুপুর ১২টার দিকে তাকে আলীকদম সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার গলায় তেঁতুলের বিচি আটকে শ্বাসনালীতে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সে সময় চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে পুনরায় হোস্টেলে ফিরে আসে। তবে সাম্প্রতিক অসুস্থতার সঙ্গে পূর্বের ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু শামা বলেন, “হোস্টেলে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে হাসপাতালে আনা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।”
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আলীকদম সরকারি হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরদেহটি কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো ও স্থানীয় ইউপি সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করে।
উল্লেখ্য, কুরুকপাতা ইউনিয়ন আলীকদম সদর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত। সেখানে সরকারি কোনো ক্লিনিক বা পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা সেবার অভাবে ভোগান্তিতে রয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও ওই অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।