মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী
সারাদেশ

মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী
সারাদেশ
কুরআন শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে কাজ করবে সরকার : রাষ্ট্রপতি
রাজনীতি
বদলি-সংযুক্তির পর যোগদান করা শিক্ষকদের তথ্য আইপিইএমআইএসে হালনাগাদের নির্দেশ
সারাদেশ
জেলেদের জীবিকার সংকট ঘুচাতে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে সরকার: আবু সুফিয়ান এমপি
জেলার সংবাদ
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার হালির হাওর, পাগনা ও শনির হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকায় টানা বৃষ্টিপাতের কারণে বোরো ধানের জমি পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। কয়েক হাজার একর জমিতে চাষ করা ধান দীর্ঘ সময় ধরে পানিতে নিমজ্জিত থাকায় চারায় পচন ধরেছে, ফলে ফসলহানির আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।
গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে উপজেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এতে ঘরে তোলার অপেক্ষায় থাকা বোরো ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হওয়ার মুখে পড়েছে। আকস্মিক এই পরিস্থিতিতে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে পানির নিচে ডুবে থাকা ধান কেটে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন, যা তাদের আর্থিক ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হালির হাওরের ছাতিধরা, স্লুইস গেইট, নেতুয়ার কাড়া, নয়ন্না, বিশাইল্লা ও মাগুরা এলাকা; পাগনা হাওরের ছাগাইয়া ভান্ডার; ভীমখালীর কলকতখা, ভান্ডা, মল্লিকপুর, উগলি, কৃষ্টনগর, হারার কান্দি ও মাখর খলা দিগা; ছনুয়ার হাওরসহ বিভিন্ন এলাকায় অতিবৃষ্টি ও অপরিকল্পিত ফসলরক্ষা বাঁধের কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে অন্তত পাঁচ হাজার একর জমি পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পানি নামানোর জন্য কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে সেচ পাম্প বসিয়ে দিন-রাত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় পানি দ্রুত সরানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিনই ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, আর কয়েকদিন পরই ধান কাটার উপযোগী হয়ে যেত। কিন্তু আকস্মিক বৃষ্টিতে জমি তলিয়ে যাওয়ায় তাদের সব আশা ভেঙে গেছে। তারা বলেন, “ধান ঘরে তোলার কথা ছিল, এখন পানির নিচ থেকে কেটে গরুকে খাওয়াতে হচ্ছে। এতে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি।” দ্রুত পানি নিষ্কাশন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা দাবি করেছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা জানান, জামালগঞ্জে প্রায় ২৩০ হেক্টর জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে একটি প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কিছু কিছু এলাকায় কৃষকরা নিজ উদ্যোগে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিচ্ছেন। বৃষ্টিপাত বন্ধ হলে দ্রুত পানি কমে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
এদিকে কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পুরো মৌসুমের ফসলহানি ঘটতে পারে। এতে শুধু কৃষকরাই নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব পড়বে।