মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী

সারাদেশ

কুরআন শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে কাজ করবে সরকার : রাষ্ট্রপতি

রাজনীতি

বদলি-সংযুক্তির পর যোগদান করা শিক্ষকদের তথ্য আইপিইএমআইএসে হালনাগাদের নির্দেশ

সারাদেশ

জেলেদের জীবিকার সংকট ঘুচাতে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে সরকার: আবু সুফিয়ান এমপি

জেলার সংবাদ

প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

চা-মিষ্টি’র নামে ঘুষ! লালমনিরহাট সিভিল সার্জন অফিসে বড়বাবুর দাপট

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি

লালমনিরহাট সিভিল সার্জন অফিসকে ব্যক্তিগত ব্যবসার কেন্দ্রে পরিণত করার অভিযোগ উঠেছে অফিসের প্রধান সহকারী (বড়বাবু) নারায়ণ চন্দ্রের বিরুদ্ধে। সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায় এখানে যেন অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

সর্বশেষ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়া প্রার্থীদের মেডিকেল ফিটনেস সনদ দেওয়ার নামে প্রকাশ্যে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা মেডিকেল রিপোর্ট জমা দিতে সিভিল সার্জন অফিসে ভিড় করেন।

চাকরির চূড়ান্ত ধাপ সম্পন্ন করতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা এসব প্রার্থীর কাছ থেকে চা-মিষ্টি খাওয়ার কথা বলে জোরপূর্বক ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।

ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রায় ২৩৫ জন প্রার্থীর কাছ থেকে এভাবে টাকা আদায় করা হয়েছে।

টাকা না দিলে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। কোনো রশিদ ছাড়াই এই অর্থ নেওয়া হয়।

কালীগঞ্জ থেকে আসা নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক মোঃ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ফিটনেস সনদ নিতে প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে চাওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে রমজানে চা-মিষ্টি খাওয়ার খরচ। প্রতিবাদ করেও লাভ হয়নি, বাধ্য হয়েই টাকা দিয়েছি। সাংবাদিকরা আসার পর কিছুটা বন্ধ হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, অফিস সহায়ক সাহেদ প্রকাশ্যে টাকা তুলছেন।

এ বিষয়ে সাহেদ বলেন, বড়বাবু নারায়ণ চন্দ্রের নির্দেশেই সবার কাছ থেকে ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ ১০০ টাকাও দিচ্ছেন।

আমি টাকা তুলে বড়বাবুর কাছে জমা দেই।

এটি অপরাধ কি না, তা বড়বাবুই ভালো বলতে পারবেন।

অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র প্রথমে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি বলেন, আপনারা আসছেন দেখে টাকা নেওয়া বন্ধ করেছি।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি সাংবাদিকদের ম্যানেজ করারও চেষ্টা করেন।

এদিকে সিভিল সার্জনের কক্ষের সামনেই এ ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেছেন জেলার সিভিল সার্জন আব্দুল হাকিম।

তিনি বলেন, আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।

সরকারি কাজে টাকা বা ঘুষ নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি।

লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি নিয়ে জেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ জাহিদুর রহমান জাহিদ ।। মোবাইলঃ ০১৯৩৪-৯৪৮৩১৭। বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ ঢুলিভিটা, ধামরাই, ঢাকা

প্রিন্ট করুন